স্বাস্থ্য কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া (60)

কুষ্টিয়া: দৌলতপুরের জোড়া লাগা দুই শিশুর চিকিৎসা–ব্যয় নেবে সরকার

দারিদ্র্যের কারণে বাধাপ্রাপ্ত কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামে জোড়া লাগা যমজ দুই শিশুর চিকিৎসাসহ সব আনুষঙ্গিক খরচ হস্তান্তর করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়; দ্রুত ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া: দৌলতপুরের জোড়া লাগা দুই শিশুর চিকিৎসা–ব্যয় নেবে সরকার
©অলংকরণ ডা. শারমিন আক্তার / we-news.com

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের জয়নব ও উম্মে কুলসুম নামের জোড়া লাগা দুই নবজাতুর চিকিৎসা-ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের অপারেশন, পরবর্তী চিকিৎসা এবং ফলোআপসহ সকল ব্যবস্থার খরচ বহন করবে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।

সরকারি হস্তক্ষেপের সূত্রপাত

দৈনিক ইনকিলাবসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গত রোববার বিকালে শিশুদের বাবা নাহিদ হাসানকে সরাসরি ফোন করে সরকারিভাবে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বিকেলে আমাকে ফোন করে বলেছেন, শিশুদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। এই সহায়তায় আমরা নতুন জীবন খুঁজে পেলাম।’

পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

জয়নব ও উম্মে কুলসুম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের দোকান কর্মচারী নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির সন্তান। তাদের জন্ম হয় ৪ মে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। জন্মের প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুগুলোকে আলাদা করা সম্ভব, তবে তা করতে একাধিক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক তিন মাস পর আবার ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। নাহিদ হাসানের মাসিক আয় মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসার ও দুই শিশুদের দুধ–চিকিৎসা যোগ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ঋণের বোঝায় পড়েন।

সরকারি সহায়তার তাৎপর্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা পরিবারকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশে তারা ইতোমধ্যে ঢাকায় চলে এসেছে এবং দ্রুত সময়ে অপারেশন ও পরবর্তী চিকিৎসা পেলে শিশুগুলো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলে প্রত্যাশা আছে।

  • শিশুদের পরিচিতি: জয়নব ও উম্মে কুলসুম, দৌলতপুরের প্রাগপুর ইউনিয়ন।
  • জন্মস্থান ও সময়: জন্ম ৪ মে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবারের মাসিক গড় আয় ৯–১০ হাজার টাকার মধ্যে, চিকিৎসা-ব্যয় বহন সম্ভব হয়নি।

পরবর্তী ধাপ ও উদ্বেগ

প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিশুদের অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার খরচ বহন করবে বলে জানিয়েছে এবং দ্রুত ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে। তবে অপারেশনের সফলতা, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ কেবিন-সেবা, দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ এবং পুনরায় গ্রামে ফিরে স্থিতিশীল জীবনযাত্রায় ফিরে আসা—এসব ধাপগুলোর সুচারু বাস্তবায়ন অপেক্ষার বিষয়। স্থানীয়ভাবে সামাজিক সহায়তা, পরিচর্যা ও পরবর্তী পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিষয় তথ্য
শিশুদের নাম জয়নব ও উম্মে কুলসুম
অবস্থান বিলগাথুয়া, প্রাগপুর ইউনিয়ন, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
জন্মতারিখ ৪ মে (বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়)
পরিবারের মাসিক আয় (আনুমানিক) ৯–১০ হাজার টাকা
সরকারি সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসা-ব্যয় বহন করবে

এ ঘটনার স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা হলো দরিদ্র পরিবারের সন্তানও যখন চিকিৎসা-সেবা থেকে বঞ্চিত হয়, তখন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি হস্তক্ষেপ দ্রুত অবস্থা বদলে দিতে পারে—কিন্তু তা নিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য স্বচ্ছ পরিকল্পনা ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কুষ্টিয়ার চিকিৎসা ও সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন রোগীর দীর্ঘমেয়াদি সহায়তায় সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হবে যাতে অপারেশন এবং সাফল্যের পরে শিশুরা সামাজিকভাবে নিরাপদ ও সুস্থ জীবন শুরু করতে পারে।

বর্তমানে পরিবারের দেয়া তথ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার ভিত্তিতে চিকিৎসা-ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে; পরবর্তী কার্যক্রম কবে ও কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে আপাতত সরকারি ঘোষণার পরবর্তী নির্দেশনা এবং হাসপাতালের নির্দিষ্ট চিকিৎসা সময়সূচি জানালে সেই তথ্য পাঠকরা জানতে পারবেন।

ডা. শারমিন আক্তার
ডা. এআই স্বাস্থ্য সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ডা., WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

60কুষ্টিয়া

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুষ্টিয়া, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব