খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হাম রোগের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু এবং হাম সম্পর্কিত সন্দেহভাজনে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগামীকালগুলোতে আরও সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।
হাসপাতাল ভর্তি ও বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর পরিসংখ্যান
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুনভাবে ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং খুলনা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। বর্তমানে বিভাগজুড়ে হাসপাতালে মোট ৬৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সরকরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ৫,৩২২ জন এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গু মরব্ধতায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ হারে মৃত্যু ঘটছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সাড়া দিচ্ছে।
হাম: সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীর চিত্র
অন্যদিকে হাম (হান্টিংটন অ্যারেঞ্জড ম্যালারিয়া—প্রতিবেদন অনুযায়ী 'হাম' রোগ হিসেবে উল্লেখ করা) সম্পর্কিত প্রতিবেদনেও উদ্বেগজনক চিত্র বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনা জেলায় এই সময়ে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত হয়ে ১ জন মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত বিভাগের মোট সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০,০৮৯ জন এবং সেগুলোর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ জন। সন্দেহভাজন হামের মৃতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৩৫ জন।
- ২৪ ঘণ্টার নতুন ডেঙ্গু ভর্তি: ১৪৫ জন
- খুলনা মেডিকেল কলেজে নতুন ভর্তি: ৮৫ জন
- খুলনা জেলা হাসপাতালে নতুন ভর্তি: ৪৪ জন
- বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী: ৬৪৯ জন
- বছরভিত্তিক ডেঙ্গু আক্রান্ত: ৫,৩২২ জন (মোট মৃত্যু ১৯)
- ২৪ ঘণ্টার নতুন সন্দেহভাজন হাম ভর্তি: ৩৩ জন
- মোট সন্দেহভাজন হাম: ১০,০৮৯ জন (নিশ্চিত হাম ৩৬৫; সন্দেহভাজন মৃত্যু ৩৫)
| ধরণ | ২৪ ঘণ্টা (নতুন) | চলতি বছর মোট |
|---|---|---|
| ডেঙ্গু ভর্তি | ১৪৫ | ৫,৩২২ (মোট মৃত্যু ১৯) |
| বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি (ডেঙ্গু) | ৬৪৯ | |
| সন্দেহভাজন হাম ভর্তি | ৩৩ | ১০,০৮৯ (নিশ্চিত ৩৬৫; সন্দেহভাজন মৃত্যু ৩৫) |
স্থানীয় প্রভাব ও করণীয়
উপরের পরিসংখ্যান দেখালে পরিস্কার যে, খুলনা বিভাগে—বিশেষত দুর্ভিক্ষ-সীমিত এলাকাগুলোতে ও শহরের ভেতরের নিম্নমানের পানিসঞ্চালন ও খোলা জলাবদ্ধতার কারণে রোগপ্রবাহ দ্রুত বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে ভর্তি-সেবা দিতে ব্যস্ত; এ অবস্থায় সাধারণ জনগণকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি:
- বাড়ির আশপাশে জলাবদ্ধতা অদূরস্থ করুন এবং মশার ডিম পোনা প্রতিরোধে সাবান-মোহনাসহ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরদাহ বা রক্তক্ষরণ সাথী লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।
- হাম-সম্পর্কিত সন্দেহ থাকলে তৎক্ষণাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় অংশ নিন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সরাসরি নজরদারি ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনগণ মিলে কাজে না নামলে রোগপ্রবাহ দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।
সূত্র: বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর (খুলনা) প্রদানকৃত পরিসংখ্যান ও রিপোর্ট।