রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে ৭৪ জন গ্রাহকের মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জানানো হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা মেয়াদপূর্তির আগেই তাদের সঞ্চয় তোলার চেষ্টা করছেন।
ঘটনার স্বরূপ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রতিদিনই নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা প্রধান ডাকঘরে গিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কিছুর বক্তব্যে বলা হয়েছে, টাকা জমা দেওয়ার সময় ডাকঘরের লেটার রাইটারের মাধ্যমে সিলযুক্ত সাদা স্লিপ প্রদানের বিষয়ে ভোক্তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। ওই স্লিপকে তারা বৈধ রসিদ মনে করে টাকা জমা দিতেন।
ঘটনার পর বিভাগীয় কার্যবিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ শুরু হলে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আছাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দায়িত্বমুক্তি ও শাসনশাস্ত্রগত নির্দেশনা
প্রকাশিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ও সরকারি কাজে স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে এবং একই বিধিমালার ১২ ধারা মোতাবেক তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
"জনস্বার্থে ও সরকারি কাজের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে..."
বরখাস্তকালে বিকাশ চন্দ্রকে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সদর দপ্তর ত্যাগ করা যাবে না। এ সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোস ভাতা গ্রহণ করবেন—ওই আদেশে উল্লেখ আছে।
অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ
একই ঘটনায় আরও ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের অফিসে কর্মরত ছিলেন—এই তথ্য কুষ্টিয়া প্রধান পোস্টমাস্টার প্রদান করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও ঘটনার কৌশল
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, টাকা জমা দেওয়ার সময় সাবেক পোস্টমাস্টারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রাহকদের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার কাছে পাঠাতেন। পরে শিহাব সিলযুক্ত সাদা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের থেকে টাকা গ্রহণ করতেন। ডাক বিভাগের সিল থাকা দরুন গ্রাহকরা সেগুলোকে বৈধ রসিদ হিসেবেই গ্রহণ করে টাকা জমা দিয়েছেন—এটিই অভিযোগের মূল কথা।
বর্তমানে লেটার রাইটার শিহাব মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন; তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাকে বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
সম্ভাব্য স্থানীয় প্রভাব
এ ধরনের ঘটনার প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ডাকঘরের উপর বিশ্বাসহীনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত শতাধিক গ্রাহক কয়েক কোটি টাকা তোলা-নেওয়ার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে—যা সঞ্চয়কারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
- আত্মসাতের অভিযোগে নামজাদা ব্যক্তি: বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস
- ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা (রিপোর্টে উল্লেখ): ৭৪
- অভিযোগিত অর্থের পরিমাণ (রিপোর্টে উল্লেখ): ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা
পরবর্তী করণীয় ও পাঠকের জন্য তথ্য
ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে; বিভাগীয় সিদ্ধান্ত ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে দফতর পর্যায় থেকে পরবর্তী সংবাদ জানানো হবে। ভুক্তভোগীরা যদি তাদের জমা-নথি বা স্লিপ সংরক্ষণ করে থাকেন, তা যথাসম্ভব পাঠাতে বলা হচ্ছে যাতে তদন্তে সহায়তা করা যায়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযোগকৃত গ্রাহক | ৭৪ জন |
| অভিযোগকৃত অর্থ | ১,১২,৩০,০০০ টাকা |
| বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা | বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস (সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার) |
| অন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ | আরও ৬ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ |
এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দাবি ও তথ্য যাচাই করে সরকারী নথি ও তদন্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। আপাতত কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যই প্রকাশিত সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে।