নওগাঁর মান্দা উপজেলাতে মঙ্গলবার দুপুরে এক যৌথ মোবাইল কোর্টে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে প্রেসক্রিপশন ও অনুমতি ছাড়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির অভিযোগে দুইটি ফার্মেসি এবং সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে দুইটি ট্রেডার্সকে জরিমানা করা হয়।
আচরণ ও অভিযানের ধরন
মোবাইল কোর্টের অভিযান দুপুর ১২টায় চৌবাড়িয়া বাজার এবং ভারশো লক্ষীর মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। চৌবাড়িয়া বাজারে পরিচালিত তল্লাশিতে দেখা যায় যে, কিছু ফার্মেসি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফিজিশিয়ান স্যাম্পল সরবরাহ করছিল—যা বর্তমানে বলবৎ থাকা ঔষধ ও কসমেটিক আইন, ২০২৩ এর বিধানের পরিপন্থী। পরিস্থিতি মোতাবেক দুটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।
কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কীশাস্তি হল
অভিযান ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ নিচে টেবিলে দেওয়া হলো—
| অবস্থান | প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি | অভিযোগ | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|---|
| চৌবাড়িয়া বাজার | রবিউল ইসলাম (মশিদপুর গ্রামের) | প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি | ১০,০০০ |
| চৌবাড়িয়া বাজার | জিসান ফার্মেসি ও চিকিৎসালয় (মালিক: নাইম হোসেন) | প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি | ৭,০০০ |
| চৌবাড়িয়া বাজার | মেসার্স শোভন ট্রেডার্স | ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারায় অনিয়ম | ৫,০০০ |
| ভারশো লক্ষীর মোড় | মেসার্স সুনিল ট্রেডার্স | ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারায় অনিয়ম | ১০,০০০ |
কোন আইন ও ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে
ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে ঔষধ ও কসমেটিক আইন, ২০২৩ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সার ব্যবসায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫৩ ধারা ভিত্তিক অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্য
“জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই মোবাইল কোর্টটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাবিল নওরোজ বৈশাখ। তিনি মোতাবেক স্থানীয় সতর্কতা বাড়াতে এবং ভোক্তা-উপভোক্তার অধিকার রক্ষায় ভবিষ্যতেও অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা
চৌবাড়িয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঔষধ পরিবহনে ও বিক্রয়ে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি মানে রোগীর স্বাস্থ্য ধারণার বাইরে ঔষধের অননুমোদিত ব্যবহার বাড়তে পারে—যা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। অপরদিকে সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় দুরব্যবস্থা কৃষক ও খামারিদের পক্ষে আর্থিক ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিতে চাচ্ছে।
- ঔষধ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রেসক্রিপশন ও অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক—এটি মানা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।
- ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ট্রেডার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গ্রাহকসুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
স্থানীয় দোকানদার ও ফার্মেসি মালিকদের উচিত সরকারি বিধি-পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নথি প্রদর্শন যোগ্য রাখার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা। সেবা গ্রহণকারী গ্রাহকরা অবশ্যই নির্দিষ্ট ঔষধ কিংবা সার কেনার সময় চালান বা প্রমাণপত্র দেখতে চাইতে পারেন।
মোবাইল কোর্ট পরবর্তী সময়ে যদি অনুরূপ অভিযান চালানো হয় তাহলে তা স্থানীয় বাজারে নিরাপত্তা আর ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রশাসনিক কথাবার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে।