নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী ব্রিজ সংলগ্ন আত্রাই নদীর পানি আজ বৃহস্পতিবার বেলা প্রায় ১১টায় দুই শিশু শিক্ষার্থীর প্রাণ কেড়ে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা অনুযায়ী সকালে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীতে নেমে একপর্যায়ে তাদের নামে পানির তোড়ে ডুবে যায় এবং পরে তাদের উদ্ধার করলেও চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও দ্রুত উদ্ধারকর্ম
নিহত দুই শিশুর নাম-পরিচিতি ও ঘটনাস্থল সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান যে, উভয়েই সকালবেলায় বাড়ির কাছের আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে নামে। ঘটনাস্থলটি হলো শিমুলতলী ব্রিজের কাছে—aত্রাই নদীর অংশ যেখানে নদীর স্রোত অনিবার্যভাবে তীব্র হয়ে উঠে। একপর্যায়ে তারা পানির নিচে ডুবে যায়; পরে এলাকাবাসীকে খবর দিলে স্থানীয়রা তৎপরভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করে দ্রুত ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিবার ও পরিচয়
নিহত দুই শিশুরা উভয়েই মাত্র ৮ বছর বয়সী। তারা হচ্ছেন—উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামের যুবদল নেতা তহিদুল ইসলামের ছেলে জিসান (৮) ও একই উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তাহমিদ হোসেন (৮)। পরিবার ও গ্রামবাসী তাঁদের অপ্রত্যাশিত এ মৃত্যুতে শোকাহত ও স্তম্ভিত বলে জানা যায়।
পুলিশের প্রাথমিক মন্তব্য
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, 'শিশু দুটি নদীতে মাছ ধরতে পানির নিচে নেমে তলিয়ে গিয়ে মারা যায়।'
ওসি মিন্টু রহমান আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় ও দায়-দায়িত্ব নিরূপণের চেষ্টা চলছে, তবে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক দিক চিহ্নিত হওয়ার খবর নেই।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
স্থানীয় নেতারা ও বাসিন্দারা বলছেন, নদীর কাছে শিশুদের ছুটাছুটি হওয়া নিয়মিত দৃশ্য। কিন্তু বর্ষাকালে বা পানির দ্রুত স্রোত থাকা অবস্থায় নৌকা ও সাঁতার না জানলে, কিংবা কোনো বাঁচার সরঞ্জাম না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কেন নদীর তীরে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেই এবং স্থানীয় প্রশাসন কবে থেকে শিশু-নিরাপত্তা নিয়ে বিবেচনা শুরু করবে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঝুঁকি
আত্রাই নদীর কিছু অংশে আকস্মিকভাবে গভীর হয়ে যাওয়া, নীলচে বা কালচে কুলতির সৃষ্টি ও পানির তীব্র স্রোত সাধারণ। এসব কারণে অভিজ্ঞতা না থাকলে বিশেষত শিশুদের জন্য নদীতে নামা বিপজ্জনক। এলাকায় অনেক পরিবারেরই গোটা দিনই নদীর পাশে কাজ বা মৎস্য আহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত; তবু শিশুদের তত্ত্বাবধান প্রায়শই অনিয়মিত থাকে।
- ঘটনাস্থল: শিমুলতলী ব্রিজ সংলগ্ন আত্রাই নদী
- সময়: ২৭ আগস্ট, প্রায় বেলা ১১টা
- নিহত: জিসান (৮), তাহমিদ হোসেন (৮)
| নাম | বয়স | গ্রাম/ইউনিয়ন |
|---|---|---|
| জিসান | ৮ | রসপুর, খেলনা ইউনিয়ন |
| তাহমিদ হোসেন | ৮ | দেলোয়ার হোসেনের ছেলে |
প্রতিরোধ ও পরামর্শ
স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সরকারি বা সামাজিক উদ্যোগে নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা সাইনবোর্ড, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম স্থাপন বা শিশুদের শিক্ষা বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি খুব সীমিত। মেডিক্যাল বা উদ্ধার দক্ষতা ছাড়া দ্রুত সাড়া না দিলে উদ্ধার কাজে দীর্ঘ দেরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মী পর্যায়ে সাধারণ কিছু পরামর্শ আছে:
- নদীর কাছে শিশুদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা।
- মৌলিক সাঁতার শেখার উদ্যোগ ও প্রাণরাখার সরঞ্জাম সহজলভ্য করা।
- ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা সাইনবোর্ড ও জীবনরক্ষাকারী বল পূর্বাবস্থায় স্থাপন করা।
নিহত দুই শিশু ও তাদের পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হোক। প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া নদীর সঙ্গে জড়িত দিনের আলোচ্য ঝুঁকি কমানো কষ্টসাধ্য হবে।
WE NEWS, ধামইরহাট (নওগাঁ): এ প্রতিবেদনে যে তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তা নেয়া হয়েছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র থেকে। ঘটনার তদন্ত চলমান।