বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় দূরের থানচি উপজেলের তমাতুঙ্গী সড়কের ১০ কিলো এলাকায় গত রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি জিপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় গাড়িটির চালক দেরাজ মিয়া (৬০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। গাড়িতে থাকা আরও ৩ জন আহতকে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ ও তাত্ক্ষণিক উদ্ধার কাজ
স্থানীয় ও উদ্ধার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল লেমনপাড়া থেকে থানচির দিকে ফেরার পথে। পাহাড়ি সড়কের ঢালু অংশে পৌঁছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং গাড়িটি উল্টে যায়। আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত কাছের হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যান। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে।
আহত ও নিহতের পরিচিতি
নিহত চালক দেরাজ মিয়া চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উজিরহাট এলাকার কবির আহমদের ছেলে বলে স্থানীয়রা ও পুলিশ জানিয়েছে। আহতরা—যাদের পরিচয় সময়মতো প্রকাশ করা হয়নি—তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল থেকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
পুলিশের মন্তব্য
"থানচিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে"
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খন্দকার ঘটনাস্থল ও উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে উপরের বিবৃতি দিয়েছেন। পুলিশ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও ঝুঁকি
পাহাড়ি এলাকার বীরত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রায়ই সরু, ঢালু ও বাঁকাবাঁকি। বর্ষা ও ধুলোমলত্যায় সড়কের নিরাপত্তা কমে যায় এবং ভারি ও অপরিষ্কারভাবে লোড করা যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। স্থানীয়রা বলছেন যে লেমনপাড়া-থানচি পথে রাতে সচরাচর বড় যানবাহন ও পাথর নিয়ে গাড়ি চলাচল করে, যা সড়কের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাকে বাড়ায়।
- ঘটনার সময়: ৩০ আগস্ট, সন্ধ্যা
- স্থান: তমাতুঙ্গী সড়কের ১০ কিলো এলাকাও, থানচি
- নিহত: দেরাজ মিয়া (৬০)
- আহত: ৩ জন (হাসপাতালে)
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় পরিষদের ও যানচালকদের করণীয়
স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ছাড়া পাহাড়ি সড়কে দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটতে পারে। বিশেষ করে নিচের কিছু করণীয় জরুরি:
- রাতের অন্ধকারে এবং বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত সতর্কতা ও ধীরগতিতে যানবাহন চালানো।
- জরুরি অবস্থার জন্য স্পিড সীমা নির্ধারণ ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
- ভারী মাল বোঝাই যানবাহনের নিয়মিত টেকনিক্যাল পরিদর্শন ও অতিরিক্ত বোঝা না দেওয়া।
- স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
আঙিনায় জিজ্ঞাসা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে; পুলিশ আহতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে খবর দেয়ার চেষ্টা করছে। জেলা পুলিশের সংঘবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে ছায়া-কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা জানানো হবে।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| নিহত | ১ |
| আহত | ৩ |
| ঘটনার স্থান | তমাতুঙ্গী সড়ক, ১০ কিলো এলাকা |
এ দুর্ঘটনা বন্দুবান তথা চট্টগ্রামের পার্বত্য সড়কগুলোতে নিরাপত্তার অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও চলাচলকারী জনগণকে আরও সতর্ক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে অনুরোধ করা হচ্ছে।