কিশোরগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান থেকে এক বিশাল জশনে জুলুস ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক ছিলেন ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদ ও জেলা সুন্নী সাইবার টিম।
মিছিল ও পথসভা
সকাল ১১টায় শোলাকিয়া ঈদগাহ থেকে বের হওয়া মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং সুন্নী আকাইদের পতাকা হাতে নিয়ে মহানবী (সা.)-এর আগমনকে স্মরণ করে ধর্মীয় স্লোগান ও দরুদ পাঠে আবহমান রীতি প্রতিফলিত করেন। অনুষ্ঠানস্থলে সুশৃঙ্খলভাবে মিছিল চলা ও ভক্তিময় পরিবেশ লক্ষ্যণীয় ছিল।
সমাবেশ, মিলাদ ও মোনাজাত
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আয়োজক ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচিত ব্যক্তিরা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
“হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।”
অংশগ্রহণ ও বক্তব্যকারীরা
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-শ্রেণির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানসূচি ও বক্তৃতার তালিকায় ছিল—জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন মধু, তরফিয়া দরবার শরীফের গদিনিশীন পীর সৈয়দ ইয়াছিন, আটরশি দরবার শরীফের জেলা কর্মী প্রধান আনিসুর রহমান, পাটধা দরবারের গদিনিশীন পীর শফিকুল ইসলাম এবং ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ আলামিন।
- উত্তোলিত বার্তা: মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা।
- আয়োজন: ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদ ও জেলা সুন্নী সাইবার টিম।
- সমাপনী অনুষ্ঠান: গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া।
| নাম | পরিচয় |
|---|---|
| খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান | জেলা পরিষদের প্রশাসক |
| ইসমাইল হোসেন মধু | জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি |
| সৈয়দ ইয়াছিন | তরফিয়া দরবার শরীফের গদিনিশীন পীর |
| আনিসুর রহমান | আটরশি দরবার শরীফের জেলা কর্মী প্রধান |
| শফিকুল ইসলাম | পাটধা দরবারের গদিনিশীন পীর |
| তানভীর আহমেদ আলামিন | ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব |
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহানবীর পবিত্র জীবন, নৈতিক চরিত্র ও সহমর্মিতার শিক্ষা অনুসরণ করলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে স্থিতিশীলতা আসবে। শেষপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ—and বিশিষ্ট অংশগ্রহণকারী উপস্থাপিত ছিলেন—দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সামাজিক সংহতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এমন অনুষ্ঠানের জন্য ঐতিহাসিক আবহ ও পর্যাপ্ত স্থান যোগায়, যেখান থেকে মিছিল ছাড়িয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করতেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। রোহান/সা.এ. রিপোর্ট করা।