পরিবেশ কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জ (06)

কিশোরগঞ্জ: মেঘনায় থেমে আছে ১৭৭ কোটি টাকার সেতুর কাজ, হাওরবাসীর অনির্দিষ্ট অপেক্ষা

অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া থেকে নাসিরনগর পর্যন্ত মেঘনার ওপর নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। প্রায় <strong>৪০ শতাংশ</strong> কাজ শেষ থাকলেও নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি খোলা আকাশে পড়ে আছে, স্থানীয়দের স্বপ্ন ও জীবিকা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সবাই।

কিশোরগঞ্জ: মেঘনায় থেমে আছে ১৭৭ কোটি টাকার সেতুর কাজ, হাওরবাসীর অনির্দিষ্ট অপেক্ষা
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

কাজ ঝল্লিয়ে থেমে গিয়ে পড়েছে মাঝপথে

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়ন পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ১,০০০ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুর কাজ প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়ে আছে উঁচু পিলার, ছড়িয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি—তবে নেই কোনো কর্মী, নেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল তমা কনস্ট্রাকশন। ২০২৩ সালে ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি দেওয়া হয়। প্রকল্পটির অগ্রগতি যখন ভালই যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ গতি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন অবস্থায় নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে পড়ে।

হাওরবাসীর প্রত্যাশা ও এখনকার অনিশ্চয়তা

এই সেতু হলে নাসিরনগর হয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরির সাথে সাথে ঢাকাসহ দেশের অন্য অঞ্চলের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংযোগ সহজ হবে বলে আশা করা ছিল—কৃষিপণ্যের পরিবহন, চিকিৎসা পৌঁছানো, শিক্ষাগত সুবিধা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন নৌপথকেন্দ্রিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকার মানুষের জীবনে এই সেতু একটি পরিবর্তনশীল প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

কিন্তু কাজ বন্ধ হওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পিলারগুলো নদীর মাঝখানে অসম্পূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যা স্থানীয়দের কাছে এখন স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার প্রতীক।

“এই সেতুর সঙ্গে আমাদের অনেক স্বপ্ন জড়িত।”

কারণ ও প্রভাব

স্থানীয় সূত্র ও এলজিইডি জানান, প্রকল্পটির গতিতে হাত দেওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক সমস্যার ফলে কাজ ধীরগতিতে গিয়েছে; একপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আত্মগোপনে চলে গেলে প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে। তমা কনস্ট্রাকশনের কর্মীরাও নির্মাণস্থল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব পড়বে—

  • স্থানীয় ব্যবসা-ব্যবসায় ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচ বাড়বে।
  • চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবায় দুরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো নমনীয়তা কমে যাবে।
  • খোলা স্থানে পড়া নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি বৃষ্টিপাতে নষ্ট হলে সরকারি অর্থ অপচয় ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রকল্প সংক্রান্ত প্রধান তথ্য

বিবরণ উল্লেখযোগ্য তথ্য
প্রকল্প এলাকা অষ্টগ্রাম (বাঙালপাড়া, নোয়াগাঁও) — নাসিরনগর (চাতলপাড়, দুর্গাপুর)
দৈর্ঘ্য ১,০০০ মিটার
চুক্তি মূলধন ১৭৭ কোটি টাকা
সম্পন্ন কাজ প্রায় ৪০%
বর্তমান অবস্থা প্রায় ৫ মাস ধরে নির্মাণ বন্ধ
ঠিকাদার তমা কনস্ট্রাকশন

স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি এখনও পর্যন্ত প্রকল্পটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি পরিষ্কার না হলে কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব নয়।

প্রকল্পটি ঝুলে থাকলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, নদীর ওপর অসম্পূর্ণ কংক্রিট কাঠামো ও খোলা অবস্থায় রাখা উপকরণ পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে বর্ষাকালে। স্থানীয়দের বহু দিনের আস্থা টিকে থাকবে কি না, এ নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবশেষে দরকার প্রকল্পের নিয়মানুগ সমাধান ও দ্রুত পদক্ষেপ যাতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ তাদের ব্যাহত পরিকল্পনা আবার শুরু করতে পারে এবং উপকরণ-সম্পদের ক্ষতি ও অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনা যায়।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

06কিশোরগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কিশোরগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব