পরিবেশ ঝালকাঠি ঝালকাঠি (37)

গাবখান চ্যানেলের ভাঙনে বিপাকে ৫০+ পরিবার, স্থায়ী প্রতিরক্ষা দাবি করা হল

ঝালকাঠি শহরের গাবখান চ্যানেলের ভাঙনে শহরের কেফাইতনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার তীরে কৃষ্ণচূড়া ঝুঁকিতে; স্থানীয়রা দ্রুত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

গাবখান চ্যানেলের ভাঙনে বিপাকে ৫০+ পরিবার, স্থায়ী প্রতিরক্ষা দাবি করা হল
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

ঝালকাঠি শহরের গাবখান চ্যানেল এলাকার তীব্র ভাঙনে হাজারো মানুষের জীবন ও সম্পত্তি ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত ভাঙন নিয়ে সতর্কতা দিলেও কোনও স্থায়ী প্রতিকার না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর কেফাইতনগর এলাকায় গাবখান ব্রিজের উত্তরে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা মানববন্ধন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ভাঙনের প্রকৃতি ও বিস্তার

স্থানীয়রা জানায়, গাবখান ব্রিজের উত্তর পার্শ্ব থেকে পরবর্তী নগর খাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় মাটি ধ্বসে পড়ছে। এ ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীতীরবর্তী প্রায় ৫০টির বেশি পরিবার এবং মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদসহ কিছু ধর্মীয় স্থাপনাসমূহ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে তাদের বসতভিটার দিকে পানি এগিয়ে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি ও উদ্বেগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন যে, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলিয়ে বা অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে এই সমস্যা সমাধান হবে না। তারা দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখেন। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু বলেন, এটি এখন শুধু কয়েকটি পরিবারের সমস্যা নয়; পুরো এলাকার মানুষের জন্য হুমকি

"গাবখান চ্যানেলের ভাঙনে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রতিদিন নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বসতবাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারাবে", local বাসিন্দা রাজু খান বলেন।

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার মানববন্ধনে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তিনি দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানান।

কারা বক্তব্য দিয়েছেন

মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তৃতা করেন—ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, সদর উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা হাফেজ মো. কাওছার, সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলম খান ফারসু এবং মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাসউদুর রহমান।

প্রভাব ও স্থানীয় জীবনের ঝুঁকি

ভাঙনের ফলে সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বসতভিটা, রাস্তা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। স্থানান্তর হলে সামাজিক, আর্থিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে—তবে এসব প্রভাব কবে, কীভাবে ঘটবে তা নির্ভর করছে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের চূড়ান্ত পদক্ষেপের ওপর। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভাঙনের পরিধি আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যাবে।

তাত্ক্ষণিক প্রতিকার বনাম স্থায়ী ব্যবস্থার প্রশ্ন

মানববন্ধনে বক্তারা কেবল অস্থায়ী সমাধি যেমন বালু ভর্তি ব্যাগ ফেলে কাজ শেষ করা যাবে না বলে আক্ষেপ করেন। তাদের দাবি, পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে—যার মধ্যে থাকতে পারে পাকা কংক্রিট বাঁধ, পাইলিং বা প্রাকৃতিক উপায়ে ভাঙন রোধের উদ্যোগ।

  • প্রভাবিত এলাকা: গাবখান ব্রিজের উত্তরের কেফাইতনগর থেকে নগর খাল পর্যন্ত
  • ভাঙন বিস্তার: প্রায় ৩০০ মিটার
  • ঝুঁকির মধ্যে পরিবার: ৫০টির বেশি

পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা

স্থানীয়রা চান সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ দ্রুত মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে জরুরি রক্ষাকবচ স্থাপন ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করবে। মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তারা আশাই ব্যক্ত করেছেন যে, দ্রুত সমন্বয় হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।

এখানে উল্লেখ্য—বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মানববন্ধনের সময় বা প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

অবস্থানভাঙন বিস্তারঝুঁকিতে
কেফাইতনগর (গাবখান ব্রিজের উত্তর)প্রায় ৩০০ মিটার৫০+ পরিবার, মৌলভী বাড়ি জামে মসজিদ

স্থানীয় পরিস্থিতি এবং ভাঙনের তীব্রতা বিবেচনায় আগামী দিনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না এলে মানবজীবন ও বসতভিটাকে পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষ এখন অপেক্ষা করছে—কখন তারা নিরাপদ জীবন ও ঘর ফিরে পাবে।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

37ঝালকাঠি

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ঝালকাঠি, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব