ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনসেবা উন্নয়নের মান সম্পর্কিত বিস্তৃত ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চলে। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা।
আলোচ্য বিষয় ও গুরুত্ব
সভায় প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয় এবং এগুলোতে সম্পর্কিত দপ্তরগুলোর কাছ থেকে অবস্থা-প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়:
- জেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ
- বাসন্ডা সেতু নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা
- খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম
- কুকুরের প্রতিরোধমূলক র্যাবিস টিকা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত পদক্ষেপ
- মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ—বিশেষ করে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা
- বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা
জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ও প্রত্যাশা
“উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে আরও আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।”
সভায় জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়মতো ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম শুধুমাত্র প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ালে চলবে না — কার্যকারিতা ও জনসেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উপস্থিতির চিত্র ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানানো হয় যে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিরোধ বরণ জয়ধর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
| বিষয় | সভায় আলোচনা/জোর দেওয়া বিষয় |
|---|---|
| বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ | জেলার বিদ্যুৎসেবা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি |
| বাসন্ডা সেতু | নির্মাণগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ |
| পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা | খাল পরিষ্কারের তৎপরতা বাড়ানো |
| স্বাস্থ্য | ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রাণিসম্পদ টিকাদান (র্যাবিস) |
| মৎস্য সংরক্ষণ | জাটকা সংরক্ষণ অভিযান কার্যকরকরণ |
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সভায় আলোচনা হওয়া এসব বিষয় সরাসরি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কাজে প্রভাব ফেলে। বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়ন ও সৌরবিদ্যুতের বিস্তরণ কৃষি, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ইতিবাচক প্রভাব আনতে পারে। বাসন্ডা সেতুর কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুততর হবে; ফলে বাজার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সুবিধা বাড়বে। খাল পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের যেকোন ব্যর্থতা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে — তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কার্যকর মনিটরিং ও যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিতরা সম্মত হন যে, আগামী মাসের সমন্বয় সভায় প্রতিটি দপ্তর তাদের অগ্রগতি সংক্রান্ত লিখিত প্রতিবেদন জমা দেবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তব উন্নতি না হলে যথাযথ ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত স্থানীয় উন্নয়নের পদক্ষেপকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।