রাজনীতি পটুয়াখালী পটুয়াখালী (38)

পটুয়াখালীর দুমকিতে জাল নোট রাখায় যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩১ আগস্ট দুপুরে ১ লাখ টাকার জাল নোট রাখার অভিযোগে মো. শামীম হোসেনকে দশ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানাাদেশ দিয়েছেন। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান কঠোর বলে উল্লেখ করেছে।

পটুয়াখালীর দুমকিতে জাল নোট রাখায় যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
©অলংকরণ সঞ্জয় মজুমদার / we-news.com

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার জলিসা গ্রামের মো. শামীম হোসেন (৩৫)কে ১ লাখ টাকার জাল নোট রাখার মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক মো. শহিদুল্লাহ। রায়টি দেওয়া হয় সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে।

মামলার ইতিহাস ও অভিযোগ

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন সংবাদকর্মীদের জানান, ওই জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে গলাচিপা এলাকায় গরু কেনার সময় ধরে নেয়া হয়েছে এক লাখ টাকার জাল নোট। ঘটনার পর ওই সময়ের পুলিশি জবরদস্তি ও তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫এ/বি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারকাজ

আদালতে মোট ১১ জন সাক্ষীর বিবৃতি নেয়ার পরে মামলাটির বিবেচনা শেষে বিচারক অভিযোগ প্রমাণিত মনে করে দণ্ডাদেশ দেন। প্রমাণিত সাক্ষীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মামলার এজাহারকারী এসআই নজরুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। পিপি টোটন বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার অংশ হিসেবে এই ধরনের রায় গুরুত্ববহ।

“১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫এ/বি ধারায় জাল নোট রাখা, বহন, ব্যবহার বা প্রচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে,”

স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

জলিসা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এই রায়ের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু লোক মনে করছেন, জাল টাকার বিপর্যয় থেকে স্থানীয় বাজারকে রক্ষা করতে কঠোর দণ্ড অপরিহার্য। অপরদিকে অনেকে বলছেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত যাতে ঠিকঠাকভাবে দোষপ্রমাণ হয় এবং ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের অভিযোগ এড়ানো যায়।

  • অভিযুক্ত: মো. শামীম হোসেন (৩৫), দুমকি উপজেলার জলিসা এলাকার বাসিন্দা
  • আদালত: পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত
  • রায়: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড
  • আরোপ: ১ লাখ টাকার জাল নোট রাখা (বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪, ২৫এ/বি)
  • রায় ঘোষক বিচারক: মো. শহিদুল্লাহ

আইনি ব্যাখ্যা ও প্রযোজ্য বিধান

প্রসঙ্গত, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫এ/বি ধারায় জাল নোট সংক্রান্ত অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে — যেন অর্থ বাজারে প্রভাব বিস্তার থেকে রক্ষা পায় এবং প্রতারণামূলক লেনদেন ঠেকানো যায়। পিপি টোটনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মামলার বিচারে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাতে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

ভবিষ্যৎ ধাপ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা

রায় ঘোষণার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নজরদারি বজায় রাখতে হবে যাতে জাল টাকার প্রবাহ পুনরায় বাড়ে না এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। যেসব ব্যবসায়ী ও গ্রাহক জাল নোট শনাক্ত করতে অনভিজ্ঞ, তাদের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও বাণিজ্য সংগঠন জনসচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারে।

বিষয় বিবরণ
আরোপীকৃত পরিমাণ ১,০০,০০০ টাকা (জাল)
শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
জরিমানা ২০,০০০ টাকা (অনাদায়ে ২ মাস বাড়তি কারাদণ্ড)
মামলা দায়ের நாள் (ঘটনার সময়) ২০২০ (গ্রেপ্তার ও মামলা সূত্রে)

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দীর্ঘসময় বিচারাধীন ছিল। তবে মামলা দ্রুত সোচ্চারভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে পিপি টোটন মন্তব্য করেছেন। রায় ঘোষণার পর কোর্টঘরের লোকজন এই মামলার নথিপত্র দেখে বেশ কিছু বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে—তবে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য মন্তব্য সীমিত রাখা হয়েছে।

৩১ আগস্টের রায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাজা দিলেও, এই রায় চূড়ান্ত না—অপরাধী আপিল করলে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। স্থানীয় আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজার পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের তৎপরতা বাড়ালে জাল নোটের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

এই রিপোর্টে ব্যবহৃত তথ্যের একমাত্র উৎস হল পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আনসমান্য সংবাদবিবরণী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটনের কথা।

সঞ্জয় মজুমদার
সঞ্জয় এআই পটুয়াখালী প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি সঞ্জয়, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

38পটুয়াখালী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পটুয়াখালী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব