পটুয়াখালী সদরের কমলাপুর ইউনিয়নে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার শতাধিক নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। উদ্যোগটি করেছে পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরাম, আর জেলা প্রশাসন তত্ত্বাবধানে ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।
ক্যাম্পে পাওয়া সেবা ও কার্যক্রম
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোগীদের চোখ পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ও বরিশালের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে রোগীদের পরিদর্শন ও পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ছানি (ক্যাটারাক্ট) রোগীদের চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
- সময় ও স্থান: কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা
- উপস্থিত রোগীর সংখ্যা: চার শতাধিক
- প্রদানকৃত সেবা: চোখ পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, চশমা বিতরণ, ছানি রোগীর শনাক্তকরণ ও অপারেশনের তালিকাভূক্তি
- সেবাদানে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান: পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরাম, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য
"অর্থের অভাবের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারায় আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব"
এই কথা বলেন ৫ নম্বর কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মৃধা, যিনি উদ্যোগটিতে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার কথা জানিয়েছেন।
"প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ছানি রোগীদের শনাক্ত করে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের আওতায় আনার ফলে অনেক মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন"
জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-হাসীব মোঃ তাসফিকুল ইসলাম, তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে জনকল্যাণমূলক এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, শুধু প্রাথমিক চিকিৎসাই নয়, ছানি রোগীদের শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে অপারেশনের আওতায় আনা এ কার্যক্রমের বড় সাফল্য। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেবার সুযোগ পায় না—তাই জনগণের নাগালের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া জরুরি।
কেন এই ধরনের কর্মসূচি প্রয়োজন
পটুয়াখালীর মতো জেলা অঞ্চলে আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে চোখের সর্বাধিক সমস্যা যেমন ছানি, রিফ্লেকশন বা চলাচলের সমস্যা, চশমার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি ব্যাপক। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে আয়োজিত বিনামূল্যে ক্যাম্প সীমিত সময়ে বড় অংশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে—বিশেষত যারা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করে বা ভ্রমণের ব্যয় চালাতে পারেন না। ছানি শনাক্ত ও অপারেশনের সুযোগ পেলে অনেক রোগী দৃষ্টি ফিরিয়ে পেতে পারে এবং স্বাবলম্বী জীবিকা পরিচালনায় সহায়তা পাবে।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| ক্যাম্প আয়োজক | পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরাম (জেলা প্রশাসন তত্ত্বাবধানে) |
| চিকিৎসা দিবে | ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বরিশাল |
| সুবিধার সুযোগ পাওয়া | চোখ পরীক্ষা, ওষুধ, চশমা, ছানি রোগীদের বাছাই |
এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে অনুদান ও সহযোগিতা করে সংগঠনের উদ্যোগকে শক্তিশালী করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত এলাকায় এমন ধরনের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেটি কেবল স্বাস্থ্যকরই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফলও বয়ে আনতে পারে। আশা করা হচ্ছে—ভবিষ্যতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও ব্যাপক ও নিয়মিত ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সুফল পাবে।
প্রতিবেদন: সঞ্জয় মজুমদার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি, WE NEWS