বাগেরহাটের মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বাগেরহাট মেডিকেল ফাউন্ডেশনের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম জোরদার করা, সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দরিদ্রদের চিকিৎসাসেবায় অগ্রাধিকার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় আলোচ্য প্রধান ক্ষেত্র
ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডস্থ মণিপুরীপাড়ার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ২০৫ নম্বর কক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে হওয়া সভায় বিভিন্ন কর্মফলক পর্যালোচনা করা হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি, অধ্যাপক ডা. এসএম আবু জাফর। সভায় বক্তারা ফাউন্ডেশনের আগামী দিনের কার্যক্রমকে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ ও সংগঠনকে কার্যকরভাবে পরিচালনার উপায় নিয়ে বিস্তারিত মতামত দেন।
দুর্বল শ্রেণি-সহায়তার ওপর জোর
সভায় অংশ নেওয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু বলেন যে, সংগঠনের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে এমন মানুষদের দিকে যাদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়—প্রয়োজনমত বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
“বাগেরহাটের মানুষের জন্য উন্নত ও মানবিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ সৃষ্টি করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।”
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবা প্রদান নয়; দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সম্পদ সংযোজনও জরুরি। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়।
কর্মসূচি ও উদ্যোগ
বৈঠকে যে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে—বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রসার, স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক প্রচারণা, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা। সভায় সদস্যরা আগামিতে ধাপে ধাপে কোন কার্যক্রম শুরু করা হবে তার একটি রূপরেখা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।
- বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ
- সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যশিক্ষা
- দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা
- সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মসম্পাদন বাড়ানো
সভায় উপস্থিত গুরুত্বপূর্ন সদস্যদের তালিকা
সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, নির্বাহী সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ও কার্যনির্বাহী সদস্যরা। তারা প্রত্যেকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সংস্থার কার্যক্রমে দায়িত্ববোধ কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে মতামত দেন।
| নাম | পদবী/পরিচয় |
|---|---|
| অধ্যাপক ডা. এসএম আবু জাফর | সভাপতি |
| ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু | সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সচিব |
| ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন | উপদেষ্টা |
| অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন | নির্বাহী সভাপতি |
অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত মেজর শেখ মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শেখ শামীম হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পুষ্টিবিজ্ঞানী শামসুন্নাহার মহুয়া, দপ্তর সম্পাদক এস এম মনিরুল আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, এবং অবসরপ্রাপ্ত জজ ইখতিয়ার মল্লিকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অনেকে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
ফাউন্ডেশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাগেরহাটের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবায় সরাসরি সুবিধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যদি নিবিড়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা অ্যাক্সেস করতে পারে, তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত করবে। তবে সংগঠনকে কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছ তহবিল ও স্থানীয় স্তরে সমন্বয়মুখী কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে—এমনটাই বলে সভায় অংশগ্রহণকারীরা দেখান।
ফাউন্ডেশন জানায়, পরবর্তী সভায় নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও সময়সীমা নির্ধারণ করে তা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আদৌ কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হলে সেখানে রোগী-ভিত্তিক সেবা বৃদ্ধি ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন চালুর সুযোগ তৈরি হবে।
অবশেষে, বক্তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন—সংগঠন যদি ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারে, তাহলে বাগেরহাটবাসী হবেগণ স্বাস্থ্যসেবায় আরো সুবিচার ও সহজলভ্যতার স্বাদ পাবে।