বাগেরহাটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের নাম নুরজাহান বেগম (৪৬)। পুলিশ ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মাদকের মোট ওজন ১ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা.
ঘটনার বিবরণ
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টা সময় বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়কের বরকত ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে নুরজাহানকে আটক করা হয়। বাগেরহাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক এস এম জাফরুল আলমের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে ব্যাগ থেকে ৫০টি নীল রঙের জিপার পলিপ্যাকেটে রাখা মোট ১০ হাজার পিস কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয় ও বর্তমান ঠিকানা
জেলা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার নুরজাহান বেগম বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের মৃত মোকাচ্ছের হাওলাদারের মেয়ে। বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈচ্চাকাঠি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
আইনী পদক্ষেপ ও প্রভাব
বাগেরহাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় নুরজাহানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বাগেরহাট সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে পুলিশ ও অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে গ্রেপ্তারকৃতকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে।
- গ্রেপ্তারকৃত: নুরজাহান বেগম (৪৬)
- অবস্থান: বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক, বরকত ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা
- দলে নেতৃত্ব: এস এম জাফরুল আলম (পরিদর্শক, জেলা কার্যালয়)
- উদ্ধার: ১০ হাজার পিস ইয়াবা (৫০ জিপার পলিপ্যাকেট)
- ওজন ও মূল্য: ১ কেজি, আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা
| বিবরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| প্যাকেট সংখ্যা | ৫০ |
| ট্যাবলেট সংখ্যা | ১০,০০০ পিস |
| মোট ওজন | ১ কেজি |
| আনুমানিক বাজারমূল্য | প্রায় ৩০ লাখ টাকা |
স্থানীয় প্রশাসন ও মাদকনিরোধকারী সংস্থাগুলো বলছে, সীমান্ত ও দুর্ভেদ্য সড়কপথ ব্যবহার করে বড় ওষুধ সরবরাহের চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এই চক্র ভাঙাতে জেলা পর্যায়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ধরনের বাজেয়াপ্তি স্থানীয় সমাজে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজের অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, তরুণদের মধ্যে মাদক বিস্তার রুখতে না পারলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি গুণতে হবে। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ও সমাজসেবীরা নিয়মিত সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা জোর দিতে থাকে।
অভিযোগ ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আদালতে জমা পড়ার পর কিভাবে মামলাটি পরিচালিত হবে তা আদালত নির্ধারণ করবে। বাগেরহাটে মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানোর কথাও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তৎপরতা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত নুরজাহানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেছে। হতাহতের বা সহিংস ঘটনার তথ্য রিপোর্টে নেই এবং উদ্ধার অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।