বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় সোমবার দুপুরে দশানী-রামপাল-মোংলা জেলা মহাসড়কের দশানী থেকে গিলাতলা অংশের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।
কীভাবে বন্ধ ছিল ও কেন জরুরি
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট থেকে রামপাল হয়ে মোংলা পর্যন্ত মোট প্রায় ৩৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ ২০২১ সালে চারটি প্যাকেজে শুরু হওয়ার পর দশানী থেকে গিলাতলা অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও যাত্রীরাও এ পথ বন্ধ থাকায় বাড়তি সময় ও খরচে সমস্যায় পড়ছিলেন।
সংস্কারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট সড়ক বিভাগের কর্মীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পরে কাজের সফলতা কামনায় মোনাজাত করা হয়।
“দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাগেরহাটের দশানী থেকে গিলাতলা অংশের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।”
প্রকল্পের অবস্থা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
সড়ক বিভাগের বাগেরহাট নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্বের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাফুজ খান লিমিটেড, যারা কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মোট প্রকল্প এলাকা | প্রায় ৩৪ কিলোমিটার |
| উদ্বোধিত অংশ | দশানী থেকে গিলাতলা, প্রায় ১০ কিলোমিটার |
| ঠিকাদার | মাফুজ খান লিমিটেড |
| চুক্তিমূল্য | ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা |
| সম্ভাব্য সমাপ্তি লক্ষ্য | জুন, ২০২৭ |
প্রভাব ও প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন কাজ সমাপ্ত হলে বাগেরহাট, রামপাল ও মোংলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, ভে্যবসায়িক পরিবহন ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে সময়ের সাশ্রয় হবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকরা মনে করছেন।
- স্থায়ীভাবে খারাপ অংশ মেরামত হলে যানজট কমবে ও ভাড়া স্থিতিশীল হবে।
- বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ উন্নত হলে স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে।
- বন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মোংলার সাথে সরাসরি সড়ক সংযোগ কাঁচামাল ও উৎপাদনশীল পন্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে।
তবে স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা অনিশ্চয়তাও আছে—প্রতিবছর বর্ষার সময় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঠিকাদারির পূর্বের গাফিলতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কাজের মান বজায় রাখা ও সঠিক তদারকি প্রয়োজন বলেই স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা মঞ্চে উত্থাপন করেছেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর সময়সূচি ও গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত—যদি তা সময়মত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আঞ্চলিক পরিবহনে দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে বলে তারা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা বলেন, সড়ক প্রকল্পগুলো কেবল নির্মাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। স্থানীয়রা এখন প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান, বিশেষ করে বর্ষাকালে অ্যালাইকরণ ও নিষ্কাশনযন্ত্রযুক্ত কাজ করা হবে কি না—এটি তাদের অন্যতম উদ্বেগ।