সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের আভিসিনা নামের এক বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার রাত পৌনে আটটার সময় সাউথ-লিফট বা আরেকটি লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লিফটে থাকা ছয়জনের মধ্যে তিনজন অস্থায়ীভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। সবাইকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরে তারা বাড়ি চলে যান—ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার মুহূর্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী ফজলু শেখ জানান, হাসপাতালের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে থাকা রোগীর স্বজনরা লিফটে ওঠেন। তৎক্ষণাৎ লিফটটি উপরের দিকে উঠার পরই ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এতে লিফটে থাকা ছয়জনের মধ্যে তিনজনের হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। তিনি বলেন, "কেউ গুরুতর আহত নয়, তবে ভয়ে সবাই চিৎকার করছিল।"
হাসপাতালের দাবি এবং প্রযুক্তিগত প্রশ্ন
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন,
"আমরা সময়মতোই লিফট সার্ভিসিং করি। কিন্তু কেন এমন হলো তা টেকনিশিয়ান না এলে বোঝা যাবে না। এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছিলেছিলেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি চলে গেছেন।"
প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আহতরা বাড়ি ফিরলেও ঘটনা হাসপাতাল পরিকাঠামো ও যান্ত্রিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে গুরুতর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক লিফট নিয়মিত মেরামত ও পরীক্ষার দাবি করলেও কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কারণ বা তত্ত্বাবধায়কের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
উপনীতি ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার মানদণ্ড
যারা লিফট চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত থাকেন, তাদের জন্য কয়েকটি মৌলিক বিষয় অপরিহার্য:
- নিয়মিত সার্ভিসিং ও রেকর্ড সংরক্ষণ: লিফটের সার্ভিস, তেলবদল, কেবেল-চেক ও ব্রেক সিস্টেমের রেকর্ড থাকা দরকার।
- প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান: যন্ত্রাংশ বদল ও জরুরি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষকে নিযুক্ত ও লাইসেন্সধারী টেকনিশিয়ান থাকা উচিত।
- জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা: লিফটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সিস্টেম যেমন ইমার্জেন্সি ব্রেক, ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই ও জরুরি এলার্ম থাকা আবশ্যক।
স্থানীয় প্রভাব ও রোগীদের উদ্বেগ
হাসপাতালে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা আতঙ্ক তৈরি করে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য লিফটই মূল চলাচলের মাধ্যম। লিফট অনিরাপদ হলে তাদের হাসপাতাল-সেবা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন, যা শারীরিকভাবে অসমর্থ ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা বাড়াবে।
প্রয়োজনীয়তা: তত্ত্বাবধান ও ত্রি-পক্ষীয় তদন্ত
প্রতিষ্ঠানগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকেজ নোটিশদান, লিফট নির্মাতা কোম্পানি ও বাহ্যিক তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিগত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা জরুরি। রোগী সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের একান্ত দায়িত্ব হলো ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
| বিষয় | উপদেষ্টা/অবস্থা |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | আভিসিনা হাসপাতাল, মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ |
| সময় | বুধবার, রাত পৌনে ৮টা |
| যাদের উপর প্রভাব | লিফটে থাকা ছয়জন; তিনজন আঘাতপ্রাপ্ত |
| চিকিৎসা | প্রাথমিক মেডিকেল টিম দ্বারা; পরে বাড়ি ফেলেছে |
কি করবেন—রোগী ও পরিজনদের জন্য প্রায়োগিক পরামর্শ
- যদি লিফটে আটকা পড়েন, ঠাণ্ডা মাথায় ইমার্জেন্সি বাটন চাপুন ও ফোন করে সাহায্য চান।
- লিফট ওঠানামার পূর্বে তার রুটিন সার্ভিসিং রেকর্ড দেখুন—বিশেষ করে দীর্ঘকালীন ব্যবহৃত লিফটে।
- আঘাত লেগে থাকলে অবিলম্বে হাসপাতালের জরুরি সেবা নিন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন বা মহানগর সিভিল সার্জনের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত তদন্ত ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার নিশ্চয়তার বিষয়গুলো জনগণের কাছে পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আশঙ্কা ও প্রশ্ন দৃশ্যমান থাকবে।