খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় গত সোমবার থেকে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার। উদ্যোগটি পরিচালনা করছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন, আর্থিক সহায়তা রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের আওতায়।
প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও কাঠামো
আয়োজকরা বলছেন এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মদক্ষতা বাড়ানো ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রশিক্ষণে যে দুটি মূল বিষয় নেয়া হয়েছে—
- ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স
- মোবাইল ফোন সার্ভিসিং
প্রশিক্ষণগুলোতে হাতে-কলমে কাজ শেখানো হবে যাতে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি কাজ শুরু করতে অথবা নিজস্ব ব্যবসা গড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
খাগড়াছড়ির মতো পাহাড়ি জেলায় শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকায় তরুণদের মাঝে পেশাগত দক্ষতা অর্জন জরুরি। আয়োজকরা জানিয়েছে, বিশেষত পাহাড়ি এলাকার তরুণ-তরুণীদের লক্ষ্য করে এই কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরি করা যায় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে সুরাহা আসে।
উদ্বোধন ও অংশগ্রহণ
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ও সিটি স্তরের সরকারি ও সামাজিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেবল কারিগরি জ্ঞানই অর্জন করবে না, বরং নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করার পরামর্শ, বাজারে প্রবেশের উপায় ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহারের দক্ষতাও শেখানো হবে।
প্রশিক্ষণের প্রত্যাশিত ফল ও চ্যালেঞ্জ
প্রশিক্ষণ সফল হলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—
- অংশগ্রহণকারীরাই স্থানীয় পর্যায়ে ছোট সার্ভিস ব্যবসা শুরু করবে এবং আয় বাড়বে।
- পাহাড়ি এলাকার তরুণশক্তি দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হবে।
- দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে মানুষের দক্ষতা বাড়বে।
তবে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে— প্রশিক্ষণের পরে বাজারসংযোগ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভর্তুকি, এবং প্রশিক্ষিতদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করা। এসব ব্যবস্থাপনা না হলে দক্ষতা থাকলেও লোকজন স্বনির্ভর হতে বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীর দায়িত্ব
প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন; আর্থিক সহায়তা আসে সরকারের অর্থ বিভাগ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে। আয়োজকরা বলছেন, প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখতে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ও বাস্তবচর্চার ওপর জোর থাকবে।
| বিষয় | স্থান | আয়োজক/সহায়তা |
|---|---|---|
| ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স | আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ি সদর | পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন; অর্থ বিভাগের ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় |
| মোবাইল ফোন সার্ভিসিং | আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ি সদর | পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন; স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম |
খাগড়াছড়িতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের পাশে দাঁড়াবে কি না স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি সংস্থা ও উদ্যোক্তারা।