প্রযুক্তির ছোঁয়ায় খামারের দৈনন্দিন কাজ বদলানো
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) — প্রযুক্তির সহজলভ্যতার মাধ্যমে জয়পুরহাটের মুরগি খামারিদের প্রাত্যহিক কাজের রীতি বদলে যাচ্ছে। স্থানীয় খামারি এখন আর সারাদিন শেডে বসে অবস্থান করে খামারের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে না; মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে আলো, পানি, ফ্যান ও তাপমাত্রা-বায়ুশুষ্কতা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা।
কী সুবিধা দিচ্ছে অ্যাপস
জাকস ফাউন্ডেশনের প্রদত্ত অ্যাপসের মাধ্যমে খামারের বৈদ্যুতিক লাইন, পানির পাম্প, ফ্যানসহ আবহাওয়া ও আর্দ্রতার তথ্য দূর থেকে দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর ফলে খামারি শেডে উপস্থিত না থেকেও সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারছেন, ফলে পাখির সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমে এসেছে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।
- অ্যাপসের মাধ্যমে রাতবেলা বা বাইরে থেকেও আলো ও পাম্প চালু-বান করা যায়।
- তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা মৃত্যু আশঙ্কা কমায়।
- সময় বাঁচায়; শ্রমিকদের দৈনন্দিন উপস্থিতির অনির্ধারিত চাপ কমে আসে।
স্থানীয় কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা
ক্ষেত্রপর্যবেক্ষণে দেখা গেছে পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের খামারি সামিউল ইসলাম রাসেল জাকস ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া অ্যাপস ব্যবহার করছেন। তিনি মোবাইল থেকে খামারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।
“আমি যেখানেই থাকি না কেন সেখান থেকেই খামারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সন্ধ্যা হলে মোবাইল দিয়েই আলো জ্বালিয়ে দিই। খামারের তাপমাত্রা কেমন সেটা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। এতে আমি অনেক লাভবান হয়েছি এবং মুরগি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে।”
জাকস ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার জানিয়েছেন, সংস্থাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পিছিয়ে থাকা মানুষকে স্বাবলম্বী করার কাজ করে আসছে এবং এই কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তারা পাঁচবিবি ও জেলার বিভিন্ন খামারিদের এই অ্যাপস সরবরাহ করেছে।
দক্ষতা বাড়ছে, যুবকরাও আকৃষ্ট হচ্ছে
খামারিরা বলছেন প্রযুক্তির এই ব্যবহার তাদের সময় বাঁচানো ছাড়াও ঝুঁকি কমিয়েছে, ফলে তরুণরাও এখন মুরগি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগও এ ধরনের আধুনিকতা খামারিদের পক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
| উপাদান | উপকার |
|---|---|
| আলোর নিয়ন্ত্রণ | সঠিক সময়ে আলো জ্বালানো/নেভালে প্রজনন ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ |
| পানির পাম্প | পানির বিরতি/সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে পাখির স্বাস্থ্যের রক্ষা |
| ফ্যান ও তাপমাত্রা মনিটরিং | তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো |
পরিসংখ্যানগত প্রেক্ষাপট
উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তথ্যমতে, ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচবিবিতে প্রায় ৯০০টি হাঁস-মুরগির খামার চালু আছে। এই চিত্র বিবেচনায়, প্রযুক্তি অভিন্নভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে ক্ষুদ্র খামারিদের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে তা বড় ভূমিকা রাখবে।
জাকস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ স্থানীয় খামারিদের জন্য একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো কাজ করছে — যেখানে প্রযুক্তি শুধু সুবিধা নয়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় হ্রাসের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সার্ভিস সাপোর্ট ও অ্যাপসের ক্রমাগত আপডেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে খামারি দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারেন।
জয়পুরহাট অঞ্চলে এই ধরনের প্রকল্পগুলো ছড়িয়ে পড়লে না শুধুই আয়ের উৎস বৈচিত্র্য ঘটবে, বরং গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহও বাড়বে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।