জয়পুরহাট সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত একমাত্র আঞ্চলিক সড়কটির দীর্ঘদিনের বেহাল দশা স্থানীয়দের জীবনযাত্রা কঠোরতর করে তুলেছে। কদমতলী মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর ও কল্যাণপুর হয়ে পাঁচবিবি উপজেলার লকমা জমিদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশটি পুরোপুরি সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে ভেঙে পড়ে এবং চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে ওঠে।
দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা এমনভাবে খারাপ হয়ে যায় যে যাত্রীবাহী কোনো যান—even ইজিবাইক বা মোটরসাইকেল—চলতে পারে না। ফলে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সবাই এ সমস্যার শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন বলেন,
“বর্ষার সময় যখন আমরা স্কুলে যাই, কাদা-পানির কারণে স্কুলে পৌঁছানোর আগেই আমাদের ড্রেস কাদায় মেখে যায়।”একই ভাবনা ব্যক্ত করেছেন অন্যরা—ডেলিভারি বা জরুরি রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিউলি আক্তার।
সামাজিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
স্থানীয়রা আভাস দিচ্ছেন যে সড়কটি বেহাল থাকায় সীমান্তবর্তী যে যে ঝুঁকি রয়েছে তা দ্রুত মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও উদ্ভট ঘটনা, উত্তেজনা বা পুশইন পরিস্থিতিতে সময়ে পৌঁছাতে পারছে না বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের ও প্রশাসনের বক্তব্য
ধলাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, কল্যাণপুর ও রামকৃষ্ণপুর মিলিয়ে একটি ওয়ার্ডে প্রায় ১৬০০–১৭০০ ভোটার বসবাস করেন এবং তাদের সুবিধার জন্য রাস্তার সংস্কার দ্রুত টেন্ডারের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিআইডি) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রহিম বলেন, যেহেতু এটি সীমান্তবর্তী এবং বিজিবির যাতায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত, ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনায় এই সড়কটিকে অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় পরিস্থিতি: প্রত্যক্ষদর্শীদের কণ্ঠ
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যানকে ভোট দেই, কিন্তু তারা আমাদের রাস্তাগুলো করে না। রাস্তা না করার কারণে বর্ষার সময় আমাদের চলাফেরায় অনেক কষ্ট হয়।”আর আক্কাস আলী জানান, অনেক সময় বাধ্য হয়ে তারা ঘাড়ে ও পিঠে বোঝা বয়ে বাজারে যেতে হয়—অর্থাৎ সাধারণ দৈনন্দিন কাজগুলোও এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য।
কতটা ক্ষতিগ্রস্ত: প্রভাবিত শ্রেণি
- শিক্ষার্থী: স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে বিলম্ব ও কাদায় পোশাক নষ্ট হওয়া।
- রোগী ও বিশেষত প্রসূতি: হাসপাতলে সময়মতো পৌঁছান সম্ভব নয়।
- কৃষক ও ব্যবসায়ী: পণ্য পরিবহন ও বাজারগমন বাধাগ্রস্ত।
- সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী: জরুরি সেবায় বিলম্বও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।
তথ্যসংকলন — রাস্তার বিস্তার ও প্রভাব
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| রাস্তাটির অবধান | কদমতলী মোড় — রামকৃষ্ণপুর — কল্যাণপুর — লকমা জমিদার বাড়ি |
| দৈর্ঘ্য | প্রায় ৪ কিলোমিটার |
| প্রধান প্রভাবিত গোষ্ঠী | শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী, সীমান্ত সেবা প্রদানকারী |
সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। এলজিইডি ভবিষ্যতে প্রকল্প প্রস্তাবনায় সড়কটিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন, তবে স্থানীয়রা চান সক্রিয় সময়সীমা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাস্তব অগ্রগতি।
এই সড়ক সংস্কার না হলে বর্ষার প্রত্যেক মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে এবং মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি চলতেই থাকবে। স্থানীয় ভোটার ও নেতা—দুই পক্ষই এখন দ্রুত বাস্তবায়ন চাচ্ছেন যাতে জরুরি সেবা, শিক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা প্রভাবমুক্তভাবে বজায় রাখা যায়।