প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এনে পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, পরোক্ষভাবে শিশুর পুষ্টির অবস্থা উন্নত করা এবং ঝড়ে পড়ার হার কমানো।
দিনাজপুরে ওরিয়েন্টেশন সভায় ঘোষণার ব্যাখ্যা
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভার পর প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান ঘোষণাসমূহ
- ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।
- ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত সরকারি মনিটরিং কাঠামের আওতায় আনা হবে।
- স্কুল ফিডিংয়ের মান ও সরবরাহে অনিয়ম বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করলে সরবরাহকারীকে তালিকা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বাদ দেওয়া হবে।
- বিদ্যালয়ে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে পাঠদান করানো, দায়িত্বেই অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
- শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘সায়েন্স টয়’ চালু এবং আট ধরনের ক্রীড়া কার্যকলাপ বাধ্যতামূলক করা হবে।
“আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। পড়াশুনায় ঝড়ে পড়া শিশু আর দেশে থাকবে না।”
স্থানীয় সম্পৃক্ততা ও ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা
প্রতিমন্ত্রী সভায় ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় লোকজনকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও স্কুল পরিচালনায় যুক্ত করলে স্কুলের প্রতি এলাকার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক নয় বলে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন এটি বিদ্যালয় এলাকাভিত্তিক অংশগ্রহণের মাধ্যম হবে।
নিয়ন্ত্রণ, মান ও জবাবদিহিতা
ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেন যে, খাদ্য সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা এসব প্রস্তাবিত মনিটরিং কাঠামো বাস্তবায়ন ও বাজেট বিষয়ক দিকগুলো নিয়ে সমন্বয় করবেন বলে জানান।
স্থানীয় প্রভাব এবং বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ
দিনাজপুরের মতো জেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে স্কুলে উপস্থিতি বাড়বে এবং পুষ্টির উন্নতি আশা করা যায়। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হবে:
- খাদ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সরবরাহকারীদের সক্ষমতা উন্নয়ন
- স্কুল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির কার্যকর ভূমিকা
- মনিটরিং ব্যবস্থার বাস্তব-সম্মত কাঠামো ও পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
| ঘটনাবলী | সময়সীমা |
|---|---|
| সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকলের জন্য স্কুল ফিডিং চালু | ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ |
| সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়কে মনিটরিং কাঠামোর আওতায় আনা | ২০২৮ সালের মধ্যে |
শেষ কথা
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ঘোষণায় শিক্ষা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্যোগগুলোর দিকে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এ সব পরিকল্পনা বাস্তবে সফল করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যালয় সম্প্রদায় ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় স্থায়ী করতে হবে। দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত এই ওরিয়েন্টেশন সভা থেকে তুলে ধরা সিদ্ধান্তগুলো যদি পর্যায়ক্রমে এবং স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে জেলার—and দেশের—প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিশুশিক্ষায় উপস্থিতিতে টেকসই উন্নতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।