দলিল লেখক পেশার সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং আত্মস্থ অনিশ্চয়তা দূর করার লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা শাখা, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে সাত দফা দাবিসহ একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান.
প্রস্থানে মিছিল ও নেতৃত্ব
এ উপলক্ষে জেলার ১৩টি উপজেলার দলিল লেখক অংশগ্রহণে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে একটি মিছিল রওনা হয় এবং তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। জেলা শাখার সভাপতি এ কে এম ফেরদৌস আখতার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী এই স্মারকলিপি হস্তান্তরে নেতৃত্ব দেন। সমিতির অন্য কয়েকজন নেতা—সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জিল্লুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
দাবিদার সমষ্টি: সাতটি প্রধান দাবি
স্মারকলিপিতে দলিল লেখকরা তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আয়ের নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। লিখিত নথিতে উল্লেখিত প্রধান দাবিগুলো নিচে সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো:
- পেশাগত সুরক্ষা: প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ বা রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি পরিবর্তনের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা।
- দলিলপ্রতি সম্মানি: প্রতিটি দলিলের জন্য ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
- লাইসেন্স সংরক্ষণ: অনলাইনে বা অন্যান্য ব্যবস্থায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমনদের দিয়ে দলিল মুসাবিদা ও দাখিল বন্ধ করা।
- নতুন লাইসেন্স বিধি: থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া নতুন লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা।
- সরকারি সুবিধা: সরকারি ব্যয়ে দলিল লেখকদের জন্য বসার ব্যবস্থা এবং নামাজের স্থান নির্মাণ।
- আইনি নিরাপত্তা: পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখার জন্য লেখকদের বিরুদ্ধে মামলা নয় করার নিশ্চয়তা।
- কাউন্সিল গঠন: দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন করে পেশার স্বার্থ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া।
দাবির প্রেক্ষাপট ও ইতিবৃত্ত
স্মারকলিপিতে সমিতি বিগত সময়ে বিভিন্ন সময়ে এসব দাবি আদায়ে সভা-সমাবেশ করেছে এমনও উল্লেখ করেছে। দলিল লেখকেরা বলছেন, গত কয়েকবছরে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির আধুনিকায়নের নামে তাদের কার্যক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং অনর্থক হস্তক্ষেপ বেড়ে গেছে। তারা মনে করেন, পেশার স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখা ও দুর্নীতিবিহীন নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক এবং বিধিগত সহায়তা জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাবিবুল হাসান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন; তবে সূত্রে উল্লেখ নেই যে মন্ত্রণালয় কি ধরনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দলিল লেখকদের মূল অনুরোধগুলো বাস্তবায়িত হলে রেজিস্ট্রি সম্পর্কিত কাজগুলোর স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রন ও পেশাগত নিরাপত্তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমনদের কার্যকলাপ বন্ধ করলে কাগজপত্র যাচাই-প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন।
স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও জনস্বার্থ
দিনাজপুরের মতো জেলা পর্যায়ে দলিল লেখকরা স্থানীয় ভূমি লেনদেন ও নাগরিকদের গৃহহস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সরাসরি সাধারণ মানুষের দলিলভিত্তিক কাজের গতি ও খরচে প্রভাব পড়বে। বিশেষত দলিলপ্রতি নির্ধারিত ফি উচ্চ হলে নিম্নআয়ের জন্য তা অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখা দিতে পারে; অন্যদিকে পেশাদার লেখকদের জন্য আয়ের নিশ্চয়তা দিলে সেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী প্রশ্ন ও কার্যপ্রক্রিয়া
সমিতি যে কাউন্সিল গঠনের দাবি তুলেছে এবং কেন্দ্রীয় স্তরে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সাড়া প্রত্যাশা করছে। এখন প্রশ্ন—মন্ত্রণালয় কবে পর্যন্ত দলিল লেখকদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং স্থানীয় প্রশাসন কী ধাপ নেবে। এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
| অনুষ্ঠানের সময় | অফিসি |
|---|---|
| মঙ্গলবার বেলা ১২টা | জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, দিনাজপুর |
দলিল লেখকদের দাবি ও প্রশাসনের ব্যবস্থা—এই দ্বৈত প্রসঙ্গটি আগামী দিনগুলোতে আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করে, তা জেলা নাগরিক ও রেজিস্ট্রি পরিষেবাভোগীদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হবে।