দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট ফিলিপস্ হাই স্কুল এন্ড কলেজ-এ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে উদযাপন করেছেন।
ফলাফল ও বিভাগীয় প্রতিবেদনে প্রধান তথ্য
প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর মোট ১২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বিভাগের ভিত্তিতে ফলের ভাঙন নিম্নরূপ:
| বিভাগ | জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী |
|---|---|
| বিজ্ঞান | ১১৯ |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৩ |
| মানবিক | ২ |
প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পাসের হার ৭৫.৪৪ শতাংশ হিসেবে বলা হয়েছে এবং বিশেষভাবে বিজ্ঞান বিভাগে শতভাগ পাস নিশ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠান ও বক্তৃতা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্ট ফিলিপস্ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি বিশপ ড. সেবাষ্টিয়ান টুডু, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রাদার কাজল লিনুস কস্তা। অনুষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকেরা বক্তব্য দেন।
“এই গৌরবময় অর্জন তোমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। ভবিষ্যতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমাদের দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
উপরোক্ত বক্তব্যটি প্রধান অতিথির প্রতিশ্রুতিমূলক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখার জন্য শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিখরে পৌঁছানোর জন্য অনুপ্রেরণার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক অংশে কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভব প্রকাশ করেন; সহজ শব্দে বলেন কীভাবে কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা তাদের এই ফল এনে দিয়েছে। কর্মকান্ডের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি, সভাপতি ও শিক্ষকবৃন্দ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
- আয়োজনে নেতৃত্ব দেন: অধ্যক্ষ ব্রাদার কাজল লিনুস কস্তা
- বিশেষ অতিথি ও বক্তা: উপাধ্যক্ষ ব্রাদার অর্পণ ব্লেইজ পিউরীফিকেমন, সহকারী প্রধান শিক্ষক ব্রাদার গ্রেনার রিছিল, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আবেদ আলী
- শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা: মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের উৎসাহবর্ধক অংশ হিসেবে সহশিক্ষাগত বিকাশের নমুনা হিসেবে দেখানো হয়।
সংরক্ষণীয় মন্তব্য ও স্থানীয় প্রভাব
অঞ্চলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য হিসেবে এ ধরনের ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শতভাগ পাস অর্জিত বিজ্ঞান বিভাগ ও মোট ১২৪ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর তথ্য অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার শিক্ষানীতিবিদদের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ধরে রাখতে ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও পরবর্তী উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে শিক্ষকেরা ব্যক্ত করেছেন যে ধারাবাহিক সমর্থন ও উপযুক্ত দিকনির্দেশ শিক্ষার্থীদের আরও উন্নতির পথ সুগম করবে।
সংবর্ধনা ও ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহর সঞ্চার করেছে।