বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের দাবিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন।
প্রতিবাদ ও দাবি
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বিভাগীয় কার্যক্রমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। প্রধান অভিযোগ হচ্ছে চেয়ারম্যানের একক অধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকায় তিনি বিভাগের কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের মতে, এর ফলেই নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা চালানো সম্ভব হচ্ছে না, প্রশাসনিক কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে সেশনজট তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ তুলে ধরে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হোসেন বলেন—
“দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছি। কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠব না।”
শিক্ষার্থীদের কঠোর অবস্থানের আগে বিভাগের দফতরে তালা ঝুলিয়ে চেয়ারম্যানকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করা হয়। পরে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন।
চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ সম্পর্কে সিডিএম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক সাংবাদিকদের বলেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে গত রোববার (৩০ আগস্ট) পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে উপাচার্য ক্যাম্পাসে না থাকায় তা কার্যকর করা হয়নি। তিনি আরও জানান যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের কথা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদও সংবাদকর্মীদের বলেছেন যে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আশা রাখছেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও কার্যক্রমের প্রভাব
সিডিএম বিভাগটি প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এক দশক পার হওয়ার পরও শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মাত্র দুইটি ব্যাচই সমাপ্ত করতে পেরেছে—শিক্ষার্থীরা এটিকে শিক্ষাগত অবহেলার একটি নমুনা হিসেবে তুলে ধরেছে। শিক্ষার্থীরা বলেছে যে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ ব্যাচগুলো পড়াশোনা ও ডিগ্রি গ্রহণে মারাত্মকভাবে কষ্টে পড়বে।
- প্রধান দাবি: অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণ
- অবস্থা: উপাচার্যের কার্যালয় সামনে আমরণ অনশন
- প্রতিবন্ধকতা: ক্লাস ও পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষক-শূন্যতা, সেশনজট
পরবর্তী ধাপ ও সম্ভাব্য সমাধান
উপাচার্য ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেই প্রশাসনিকরা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তাদের দাবি না মেটালে তারা অনশন ভাঙবেন না। পরিস্থিতির স্থিতিশীলতায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যদি স্বচ্ছ তদন্ত ও সময়োপযোগী প্রশাসনিক পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে—যার প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| অনশন শুরু | ৩১ আগস্ট, উপাচার্যের কার্যালয় সামনে |
| শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ | শতাধিক |
| প্রধান দাবি | চেয়ারম্যানকে অপসারণ |
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সম্মত তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের শঙ্কার সমাধান করতে পারে—এটাই স্থানীয় শিক্ষাবৃত্তির সুরক্ষার জন্য জরুরি। প্রসঙ্গত, বিভাগীয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংযুক্তি ও ক্লাস-পরীক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ পর্যন্ত প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ চালাচ্ছে এবং একেবারে দ্রুত সমাধান চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাস্তবে কী পদক্ষেপ হবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কবে পর্যন্ত মীমাংসা হবে—এটি আগামী সময়ই নির্ধারণ করবে।
মনিরুজ্জামান খান, বরিশাল প্রতিনিধি