বরিশাল: বরিশালের ১৫ দিনব্যাপী জেলা বৃক্ষমেলায় বর্তমানে ক্রেতাসংখ্যা ও বিক্রিতে তীব্র পতন লক্ষ করা গেছে। মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি মালিকরা বলছেন, টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া এবং সন্ধ্যার পর বহুলাংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার কারণে বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে; ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
মেলার পরিস্থিতি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ স্টল ক্রেতাশূন্য; বিক্রির চিত্র স্বাভাবিকের তুলনায় খুবই নিম্ন। মেলায় মোট ১৬টি স্টল অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ক্রেতা বেশি আসে; কিন্তু এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত থাকায় দোকানপাট ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
‘এবারের বিক্রি দেখে আমি হতবাক। দুজন কর্মচারীর খরচসহ সব মিলিয়ে বড় লোকসান গুনতে হবে।’
এই মন্তব্যটি করেছে দীর্ঘদিন ধরে নার্সারি ব্যবসা করা ‘তরুলতা নার্সারি’র নান্নু মিয়া। স্বরূপকাঠি থেকে আগত ‘মা মণি নার্সারি’র মালিক রহিমও জানান, মেলায় মানুষ গাছ দেখে ছবি তুলছে কিন্তু চারা কেনার প্রবণতা নেই।
প্রদত্ত প্রজাতি ও সাধারণ বিক্রির ধারনা
এ বছরের মেলায় ১০০-এর বেশি প্রজাতির ফলজ ও বনজ চারা দেখা যাচ্ছে। মেলায় পাওয়া গাছগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল — ছবেদা, ভিয়েতনামি মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো ও পিংক কাঁঠাল। মেলা শুরু হওয়ার পর সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হত প্রায় ৫ হাজার টাকা করে; অনেকে জানান এবারে সেই পরিমাণও হয়নি।
| বিবরণ | মেলা সংক্রান্ত তথ্য |
|---|---|
| মেলার মেয়াদ | ১৫ দিন (বর্তমানে চলমান; শেষের তারিখ ২৩ আগস্ট) |
| স্টল সংখ্যা | ১৬টি |
| প্রজাতি | ১০০-এর বেশি ফলজ ও বনজ চারা |
বিদ্যুৎ সংযোগ ও সময় বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনার কারণে সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট সময়ের পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টার লোডশেডিংও হচ্ছে; ফলে অন্ধকারে দোকান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বিক্রি বাড়াতে মেলার সময় বাড়ানো হলে কিছু হালকা হয়ে আসতে পারে।
‘আপাতত ২৩ আগস্ট পর্যন্তই মেলা চলবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। বিক্রি বাড়াতে জনগণকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’
এই বক্তব্যটি জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের। বরিশাল বিভাগীয় বন বিভাগও জানিয়েছে, বিক্রির অবস্থা অনুযায়ী মেলার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
- কারিগরি কারণ: টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া কেয়ারিং ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমিয়েছে।
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় বিক্রয় কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।
- ব্যবসায়িক প্রভাব: কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য স্থায়ী খরচের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি রেখে স্থানীয় নার্সারি মালিক ও অংশীদাররা আশা করছেন প্রশাসন, বন বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সদিচ্ছা দেখিয়ে রাতের বিদ্যুৎ সংযোগ নির্ধারণে সমন্বয় করে অথবা মেলার সময় বাড়িয়ে দেয়, তবে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে জেলা প্রশাসনের অবস্থান এখনও হলো সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং বিক্রির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মেলা শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক তারিখ ২৩ আগস্ট; তবে অংশগ্রহণকারীরা আশংকা করছে যে এই সময়সীমা অনুযায়ী চললে বহু নার্সারি ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। পরিস্থিতি কেমনভাবে সেরে উঠবে তা নির্ভর করবে রোববারের আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আবহাওয়ার ওপর।
রিপোর্ট: বরিশাল থেকে