সিরাজগঞ্জে জেলার উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘উদ্যোক্তা মিলনমেলা ২০২৬’। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনব্যাপী মিলনমেলায় জেলার শতাধিক উদ্যোক্তা ছাড়াও ঢাকার ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘স্মার্ট ট্যুরিজম ও উদ্যোক্তা সিরাজগঞ্জ’ ফেসবুক গ্রুপ, সহযোগিতা করেন সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন ও সিরাজগঞ্জ ইনফো ডটকম।
ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে আলোচনা
মিলনমেলার কেন্দ্রীয় আলোচনা ছিল সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের সম্ভাবনা, কৃষি ও শিল্পায়ন ও স্থানীয় উদ্যোক্তা উন্নয়নকে কীভাবে সমন্বিত করা যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন, যিনি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ইকোনমিক জোন ও এলাকার শিল্পায়নের সম্ভাব্য ভূমিকা তুলে ধরেন।
“স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হলে সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়িক সম্ভাবনাগুলো আরও দৃশ্যমান হবে।”
এই বক্তব্য মিলনমেলার এক অংশে চ্যানেল আই অনলাইনের আউটপুট এডিটর ও সিরাজগঞ্জ ইনফোর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল সাফি ঘোষণা করেন। তিনি উদ্যোক্তাদের কার্যকর নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ তৈরির গুরুত্বে জোর দেন।
কারো দৃষ্টিভঙ্গি ও অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্য
অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন স্মার্ট ট্যুরিজমের প্রতিষ্ঠাতা আসলাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মাজহারুল হক মান্না, ইনভেস্টমেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন এমডি কাওসার ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তানভীর মাহমুদ পলাশ।
মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং সিরাজগঞ্জে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুবিধা ও বাধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষত যমুনা নদীকেন্দ্রিক পর্যটন পরিষেবা ও কৃষি-ভিত্তিক উদ্যোগগুলোর প্রতি ঢাকার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনাসমূহ
মিলনমেলায় যে মূল পয়েন্টগুলো উঠে আসে তা সংক্ষেপে:
- নেটওয়ার্কিং ও বাজার সংযোগ: ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ স্থাপন করে স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ।
- ইকোনমিক জোন থেকে সুযোগ: ইকোনমিক জোনের অবকাঠামোগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- স্থানীয় সম্পদ ও পর্যটন: যমুনা নদীর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সার্ভিস সেক্টর বৃদ্ধি।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রতিফলন
সিরাজগঞ্জ জেলার উদ্যোক্তা ও ছোট--মাঝারি শিল্পের উন্নতি হলে এটি স্থানীয় কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্যের মূল্যসংযোজন ও আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এসব সুফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা ও ব্যক্তিগত সেক্টরের অংশীদারিত্ব—এই বার্তাও মিলনমেলায় গুরুত্ব পেয়েছে।
| বিষয় | প্রতিপাদ্য |
|---|---|
| প্রধান আয়োজন | উদ্যোক্তা মিলনমেলা ২০২৬ |
| আয়োজক | স্মার্ট ট্যুরিজম ও উদ্যোক্তা সিরাজগঞ্জ (ফেসবুক গ্রুপ) |
| সহযোগী | সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জ ইনফো ডটকম |
| উপস্থিত | শতাধিক উদ্যোক্তা, ঢাকার ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও গণমাধ্যম |
পরবর্তী করণীয় ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ
অংশগ্রহণকারীরা মেলায় আলোচ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন—অর্থায়ন, লজিস্টিক সুবিধা, দক্ষ মানবসম্পদ ও বাজার আনলক করার কৌশল। মিলনমেলাটি শুধুমাত্র পরিচয়পত্র বিনিময়ের স্থান নয়; এতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তব উপযোগী পরামর্শ এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে বলে উপস্থিতরা মত প্রকাশ করেন।
আসলাম উদ্দিন মিলনমেলাটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন; তা নিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মহল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে স্থানীয় অর্থনীতির প্রসারের জন্য এমন অধিবেশনগুলো নিয়মিত আয়োজন করা হলে অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে—এটাই মিলনমেলার প্রধান প্রত্যাশা।