সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর গ্রাহকরা অতিরিক্ত ও অনিয়মপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল প্রদানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুরে সমিতি অফিস চত্বরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, রিডারম্যানরা ঘরে গিয়ে মিটার রিডিং না নিয়ে মনগড়া হিসাব করে বিল তৈরি করছেন এবং এভাবে গ্রাহকদের বাড়িতে বিল পৌঁছে দিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, বিলের সঙ্গে অনাবশ্যক অতিরিক্ত চার্জ ও ভুতুড়ে সংখ্যা যুক্ত করা হয়, ফলে সাধারণ পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে। তারা এই অনিয়মের জন্য জিএম (জেনারেল ম্যানেজার)-এর পদত্যাগ দাবি করে প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিক্ষোভে কী দাবি করা হলো?
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সোচ্চারভাবে নিম্নলিখিত দাবি জানিয়েছে:
- মনগড়া বিল বাতিল করে সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী পুনরায় বিল প্রদান করা।
- রিডারম্যানদের কার্যপদ্ধতি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
- জিএমের পদত্যাগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
স্থানীয়রা আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হলেও ব্যবস্থাপনায় কোনো স্বচ্ছতা নেই। ফলে তারা বাধ্য হয়ে মিছিলে নামেন।
সমিতির প্রতিক্রিয়া
সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম নুরুল হুদা দাবি করেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এমন অভিযোগের পর একজন রিডারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে; আর কিছু কর্মীর বিরূপ আচরণের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
“তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এমন অভিযোগে এক রিডারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হতে পারে।”
জিএম নুরুল হুদা বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিয়েছেন যে যেসব গ্রাহকের বিল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, সমিতি ভুল আর অনিয়ম দমন করতে কঠোরভাবে কাজ করবে।
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে অসন্তোষ গ্রামীণ ও নগর দুই প্রহরেরও মধ্যে ছড়াচ্ছে—বিশেষ করে যারা সীমিত আয়ে নির্ভর করে। বছরের এই সময়ে বাড়তি অর্থিক চাপ পরিবারের খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গ্রাহকরা জানায়।
স্থানীয় প্রায়শ এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে গ্রাহক সংগঠনগুলো কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, যদি পর্যাপ্ত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ না হয় তারা আইনগত ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাড়িয়ে দেবেন।
| অভিযোগ | কারী | এখনকার পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| মনগড়া মিটার রিডিং | রিডারম্যান | এক রিডারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত |
| অতিরিক্ত/ভুতুড়ে বিল | পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি | ধারণা অনুযায়ী অভিযোগ যাচাই-পড়তাল চলছে |
প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত গ্রাহক ও সমিতির মধ্যে সরাসরি কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
গ্রাহকদের করণীয়
এ ধরনের অবস্থায় কিছু বাস্তবধর্মী পরামর্শ গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হতে পারে:
- বিলে অস্বাভাবিক সংখ্যা দেখা গেলে মিটার নিজে দেখে নিন ও রিডিং নোট করে রাখুন।
- অভিযোগ করলে নথিভুক্ত প্রমান রাখুন—তারিখ, সময় ও সংশ্লিষ্ট অফিসে করা অভিযোগের কপি সংগ্রহ করুন।
- সমিতির তদারকি ও গ্রাহক অধিকার সংক্রান্ত বিভাগে লিখিত অভিযোগ করুন এবং যথাযথ প্রতিক্রিয়া চাইতে থাকুন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই বিষয়টি নজরদারি করছে। গ্রাহকরা চাইছেন দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান যেন তাদের অর্থনৈতিক বোঝা কমায় এবং বিদ্যুৎ সেবা প্রদান আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়।