বরিশাল: গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন ছয় মাস বয়সী তূর্জ বল্লভ—তার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা; আর অপরজন চার মাস বয়সী হুমায়েরা, বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলা।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভাগের চিত্র
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১৫,৮১৫ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ১৪,৯৫২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বিভাগীয় বিভিন্ন জেলায় হাম আক্রান্ত সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৪৯। মৃতদের মধ্যে শিশু রয়েছে ১৯ জন।
"হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রতিটি মৃত্যুই দুঃখজনক, হাম মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল মুনায়েম সাদ বলেছেন সৎভাবে উপরের কথাগুলো, যে কর্তৃপক্ষ রোগী পরিচর্যা ও টিকাদান কার্যক্রমকে জোরদার করেছে। তবে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে সংখ্যা এবং মৃত্যু বৃদ্ধির সংবাদ স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
অপর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জল, মৌসুমি পরিবেশগত কারণ এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি মিলিয়ে স্কুলগামী ও শিশুদের মধ্যে রোগের ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রত তরল ক্ষতি ও ডিহাইড্রেশন ঝুঁকি থাকায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে দৌড়াধাওয়ায় সমস্যা বাড়ে। পরিবারের লোকজন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
- কাদের বেশি ঝুঁকি: ছোট শিশু, বয়স্ক ও সংক্রমিত ব্যক্তিরা আগে সাড়া পড়ে।
- প্রাথমিক লক্ষণ: জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, দ্রুত পানিশূন্যতা।
- তৎক্ষণাৎ করণীয়: পিষিত ও ক্লোরিন বিশুদ্ধকরণ, অরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) প্রয়োগ এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ।
কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
শিক্ষা ও প্রচার কার্যক্রম, টিকাদান এবং হাসপাতালে জরুরি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসাশিবির চালানো হচ্ছে যাতে বাড়তি চাপ সামলানো যায় এবং মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| চিকিৎসা নেওয়া রোগী (চলতি বছর) | ১৫,৮১৫ |
| চিকিৎসা শেষে সুস্থ | ১৪,৯৫২ |
| মোট মৃত্যু (শর্তানুযায়ী) | ৪৯ |
| মৃত শিশু | ১৯ |
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয় জনগণকে টিকা গ্রহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তির তড়িৎ চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
কর্মকর্তাদের অনুরোধ ও জনসেবা
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রোগটি সন্দেহ হলে ঘরেই ওআরএস প্রয়োগ করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। আশপাশের পরিবেশ ও পানীয় জলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধে পরিবার, স্থানীয় পরিষদ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপই সবচেয়ে কার্যকর পথ। স্থানীয় হাসপাতালে বেড, ওষুধ ও প্রশিক্ষিত স্টাফের পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এঘটনায় স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলি দ্রুত কার্যকর করা না হলে শিশুদের ওপর প্রভাব বেড়ে চলবে—এমন আশঙ্কা থেকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষই পজিটিভ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে।
রোগের প্রকৃতি ও বিস্তারের দিকে লক্ষ রেখে, নাগরিকদের উচিত সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।