চাঁপাইনবাবগঞ্জে আগস্ট মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা ও সেবা ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বলে হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালে রোগীর চাপ ও শয্যা সংকট
জেলার প্রধান প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে জটিল রোগীর পূর্ণ চিকিৎসার সুব্যবস্থা না থাকলেও সাধারণ ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। তবু পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে:
- গতকাল রোববার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ছিলেন ৬৩ জন।
- এর মধ্যে শুধু রোববারই নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন।
- এই বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তি হয়েছেন ৭৮৬ জন।
- জেলা হাসপাতালের বর্হিবিভাগে (outpatient/শহরীয় শনাক্ত) শনাক্ত হয়েছেন ৫০১ জন।
- জেলা হাসপাতালে শুধু গত রোববারই ভর্তি ও শনাক্ত মিলিয়ে ছিলেন ৬৭ জন।
| তথ্য | সংখ্যা |
|---|---|
| জানুয়ারি-আগস্ট (মোট ভর্তি) | ৭৮৬ |
| বর্হিবিভাগে শনাক্ত | ৫০১ |
| গতকাল নতুন ভর্তি | ৪০ |
| গতকাল ভর্তি ও শনাক্ত (জেলা হাসপাতাল) | ৬৭ |
প্রভাব ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
জেলার হাসপাতালগুলোতে জটিল ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চালানোর সুবিধা সীমিত। কর্তৃপক্ষ জানায়, জটিল রোগীর ক্ষেত্রে অবস্থা গুরুতর হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পর মৃত্যু হয়েছে।
জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, “অবস্থা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রচুর রোগী এলেও এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।”
সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম. সাহাবুদ্দীন জানান, “আগস্টের শুরু থেকেই অবস্থা হঠাৎ খারাপ হতে শুরু করে, বিশেষ করে জেলা সদরে। অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী আসছে।”
চিকিৎসা খরচ ও রোগী আচরণ
সংক্রান্ত সূত্রে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে শনাক্তের সংখ্যার পাশাপাশি প্রাইভেট ক্লিনিকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী বা ঢাকায় যাচ্ছেন, ফলে রোগীদের আর্থিক ও ভ্রমণ সংক্রান্ত বোঝা বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
কী করা জরুরি: প্রতিরোধ ও তৎপরতা
জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কোর‑অ্যাকশন নেওয়া প্রয়োজন—বিশেষত হাসপাতালের শয্যা ব্যবস্থার ব্যপ্তি, অতিরিক্ত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রোগী স্থানান্তর সুষ্ঠুভাবে করার জন্য। জনগণের পক্ষে কিছু সাধারণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা জরুরি:
- ঘরে বাহিরে জলের জমে থাকা অংশ বন্ধ করা—বাছকোণার ডিম ধ্বংস করা।
- তাপমাত্রা ও ডিহাইড্রেশন লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সংকেতমুখী লক্ষণ হলে হাসপাতালে যোগাযোগ করা।
- পছন্দমত চিকিৎসা নিতে পারলে প্রাইভেট ক্লিনিকে যোগাযোগ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনকে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর সহায়তা‑সংস্থান দ্রুত বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। রোগীর সংখ্যা এবং রোগের গাম্ভীর্য বিবেচনায় অভিযোজন যোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের দিনগুলোতে চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অফিসিয়াল ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত।