র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প শনিবার গভীররাতে অভিযান চালিয়ে শহরের বালুবাগান-আরামবাগ এলাকায় থাকা একটি তিনতলা বাড়ি থেকে জাল মুদ্রা তৈরির সরঞ্জাম ও জাল নোট উদ্ধার করেছে। অভিযানে দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং জাল মুদ্রা তৈরির মূল পরিকল্পনাকারীকে ধরা সম্ভব করতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আটকের বিবরণ ও উদ্ধারকৃত মালামাল
র্যাব-৫ের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযানটি ছিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। র্যাব দ্রুতগতিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু বস্তু উদ্ধার করেছে।
অভিযানের সময় ও স্থান: শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত প্রায় ১২টা, শহরের আরামবাগ-বালুবাগান এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি।
গ্রেপ্তারকৃত: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে তসিকুল ইসলাম এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মন্দিমোড় এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে শামীম আলী।
উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের সংক্ষিপ্ত তালিকা
- ২৫টি বান্ডিল—বিভিন্ন দেশের জাল নোট
- জাল নোট তৈরির বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম
- অভিযানে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ
| আইটেম | পরিমাণ |
|---|---|
| জাল নোটের বান্ডিল | ২৫টি |
| মুদ্রা তৈরির সরঞ্জাম | বিভিন্ন |
“দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িটি জাল মুদ্রা তৈরির কারখানার মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল; বিভিন্ন দেশের মুদ্রা তৈরির কার্যক্রম চলত সেখানে,”—র্যাব কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বলেন।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এ ধরনের গোপন কারখানার অস্তিত্ব আবিষ্কার হওয়া স্থানীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। নকল মুদ্রা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ব্যবসায়ী, সাধারণ লেনদেন ও স্থানীয় অর্থনীতির লক্ষ্যেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে নকল নোটের অভিযোগ থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আস্থা কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন ব্যাহত হতে পারে।
র্যাবের পরবর্তী পদক্ষেপ
র্যাবের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি জাল নোট তৈরির মূল সংগঠককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামাদি ও নোটের বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ক্রসচেক করবেন এগুলো কবে এবং কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে বা পড়তে পারে।
প্রযোজ্য আইনি দিকগুলো
জাল মুদ্রা বানানো ও প্রচলন করার ঘটনায় বেআইনি কাজের অপরাধের আওতায় কড়া শাস্তি রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন ও দণ্ডবিধির ধারায় মামলা করা হবে বলে র্যাব জানিয়েছে। তদন্তে যে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের জন্য পরামর্শ
- অন্য কারও কাছে থেকে বড় অংকের নথবিহীন নোট গ্রহন করার সময় সতর্ক থাকুন।
- অবৈধ নকল কাগজ বা সন্দেহভাজন নোট দেখা গেলে নিকটস্থ ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
- কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকলে স্থানীয় র্যাব/পুলিশকে অবহিত করুন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল মুদ্রা তৈরির এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও র্যাবের উপস্থিতি নথিভুক্ত হওয়ায় জনস্বার্থে কিছুটা আশ্বস্তির সঞ্চার হয়েছে। তবে মূল হোতা ধরা না পড়া পর্যন্ত সন্দেহ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না—এটাই মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।