চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খেসবা লাইনপাড়া গ্রামের এক পরিবার দুই মাস ধরে নিরাপদ আশ্রয়হীন থাকার অভিযোগ করেছে। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা বলছেন—সদ্য বহিষ্কৃত ইমাম এহসান আলীর সঙ্গে তার স্বজনদের দফায় দফায় হামলা ও হুমকির কারণে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছেন।
ভুক্তভোগী মইন ইউ আহ্মেদ দেলোয়ার সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইমাম হিসেবে görevকালীন সময়ে এহসান আলীর বিরুদ্ধে এলাকায় অনলাইন জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে ইমামতি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠার পর থেকেই সম্পর্ক ঝাপসা থাকায় তিনি ও তার স্বজনরা স্থানীয় ইমামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা শুরু করেন বলে ভুক্তভোগীর বক্তব্য।
হামলার সিরিজ ও তাদের প্রভাব
ভুক্তভোগী পরিবার ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা বলছেন, গত কয়েক মাসে অন্তত সাতবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে গত ২৮ জুন—সেখানে রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার পর তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মামলার পর থেকেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম এবং নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল দেবনাথ অভিযুক্তদের পক্ষে পক্ষপাত করছে। ফলে তাদের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে এবং তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে গত দুই মাস ধরে ঘরছাড়া রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও অভিযুক্তের পক্ষ
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল দেবনাথ দায়িত্বশীল আচরণ করে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা আদালতে বিচারাধীন, পুলিশ প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্ত সাবেক ইমাম এহসান আলী মুঠোফোনে জুয়া খেলার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি নিজে ইমামতি ত্যাগ করেছেন। সংবাদ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তের শ্বশুর ও মামাও ঘটনার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে; তারা এখনও সেসব অভিযোগ খণ্ডন বা স্বীকার করেনি।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সামাজিক প্রভাব
গ্রামের সাধারণবাসী বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং তার পরবর্তী হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া সামাজিক সহিংসতার ভয় ফুটিয়ে তুলেছে। পরিবারটি ঘরছাড়া হওয়ায় পারিবারিক রুটিন ভেঙে পড়েছে—শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সবই ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী ও প্রতিবেশীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে যদি দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করা হয়, তাহলে ঘটনা আরও তীব্র হয়ে সম্প্রদায়ে বিরাজমান উত্তেজনা বাড়তে পারে।
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষিপ্ত)
| তারিখ/কাল | ঘটনা |
|---|---|
| সাম্প্রতিক সময় | ইমাম এহসান আলীর বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগ ওঠে; তাকে ইমামতি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় |
| গত কয়েক মাস | ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে অন্তত সাতবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে |
| ২৮ জুন | সর্বশেষ প্রচণ্ড হামলা; রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত; পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করেছে |
| বর্তমান | মামলা আদালতে; পরিবার দুই মাস ধরে ঘরছাড়া ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন |
ভুক্তভোগীদের দাবিসমূহ ও পরবর্তী করণীয়
- ভুক্তভোগীরা চাচ্ছেন মামলা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
- স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করে আইনের শাসন বজায় রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর অনুরোধ রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নাচোল থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও আদালতের বিচারাধীনতা নিয়ে স্থানীয়দের তৎপরতা বেড়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতভিত্তিক আচরণ বিরত না হলে তারা শান্তিতে ফিরতে পারবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে পদক্ষেপ নেবে, তা এলাকার সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
WE NEWS এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য সংগ্রহ করে অনুসরণী রিপোর্ট প্রকাশ করবে।