ভারতের ফারাক্কার সকল গেট খুলে দেওয়া ও উজান থেকে তীব্র ঢলের কারণে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি হু হু করে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব রনি করে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়ভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন শুরু হয়ে বহু ফসল ও ভূমি বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও ফসল
গোদাগাড়ী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া মহল্লার ইয়াহিয়া মিয়া কুপের পাশে প্রায় ১ কিলোমিটার নদী ভেঙে গিয়ে শতাধিক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দেবীনগর, চর আষাড়িয়াদহ, তেলকুপিসহ একাধিক ইউনিয়নে রাস্তা ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, জিও ব্যাগ রাখা স্থানে পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে সেগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে; যে কোন মুহূর্তে সেগুলো নদীর সঙ্গে বিলীন হতে পারে।
- প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভাঙনে বিলীন ফসলের মধ্যে রয়েছে: ধান, পাট, ভূট্টা, কলা, করলা, পটল ও অন্যান্য সবজি।
- বিভিন্ন রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে এবং মানুষ হাঁটু বা মাংটু পানির মধ্যেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
- গোদাগাড়ীর বললছেল এলাকায় যেখানে গত বছরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সেই অঞ্চলে এ বছরও পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভাঙন দেখা গেছে।
সদর উপজেলায় মর্মান্তিক মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের ডচর-চাকলা এলাকায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু ঘটে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হাসান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
“পাঁচ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,”
মৃত পাঁচ শিশুর নাম ও বয়স শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—চর চাকলা গ্রামের নিজাউদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও সুরাইয়া (৯), একই এলাকার সাইপ্রাস প্রবাসী মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও আরিবা (৮) এবং শরিফা (১১) (শরিফুল ইসলামের কন্যা)।
| নাম | বয়স | গ্রাম/পরিবার |
|---|---|---|
| সুমাইয়া | ১১ | নিজাউদ্দিনের কন্যা, চর চাকলা |
| সুরাইয়া | ৯ | নিজাউদ্দিনের কন্যা, চর চাকলা |
| সুমাইয়া | ১১ | সাইপ্রাস প্রবাসী মাসুদ আলীর কন্যা, চর চাকলা |
| আরিবা | ৮ | সাইপ্রাস প্রবাসী মাসুদ আলীর কন্যা, চর চাকলা |
| শরীফা | ১১ | শরিফুল ইসলামের কন্যা, চর চাকলা |
স্থানীয়দের জীবনযাত্রা ও আশঙ্কা
স্থানীয়রা বলছেন, বন্যার পানির ধাক্কায় পাকা রাস্তা, বাঁশের বাগান ও আমবাগানসহ শত শত বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। দেবীনগর থেকে নজিপুর পর্যন্ত রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় জনঙ্ঘন সম্প্রতি সীমিত হয়েছে। অনেকে বলছেন, গতবছরও পানির উচ্চতা বেড়ে একই ধরনের ক্ষতি হলেও এ বছর পরিস্থিতি অনেক বেশি তীব্র।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও বাসিন্দা উল্লেখ করেছেন যে, যেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল সেগুলো পানির প্রবাহে ঝুঁকিপূর্ণ; যদি জিও ব্যাগ ভেঙে যায় তাহলে নদী ভাঙন আরও দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে এবং আশপাশের বসতভিটারও সম্ভাব্য ক্ষতি বাড়বে।
পরবর্তীতে যা দেখা যাবে
পদ্মা ও মহানন্দার পানি যদি বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও বেশি এলাকাই ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। জায়গা ও ফসলের ক্ষতি মেটাতে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা, বাঁধ ও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন আগে থেকেই গুরুত্বসহকরে দেখা উচিত। প্রশাসন ও নদী সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর কাছে স্থানীয়রা অবিলম্বে সহায়তা দাবি করছেন।
এই প্রতিবেদনে কেবল স্থানীয় সূত্র ও থানার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে; পরিস্থিতির পরিমাপ ও ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জানাতে আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের আরও বিবৃতি প্রয়োজন।