ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে শুরু হওয়া রক্ষণাবেক্ষণকাজের প্রভাবটা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্থানীয়দের জীবনে কাঁটা হিসেবে অনুভব করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার নয়—গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া সংস্কারের কারণে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
জানাযায়—গতকাল থেকে কেমন পরিস্থিতি
স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ও যাত্রীরা জানান, নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় একটি সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করার পরে ঢাকাগামী লেন বন্ধ রাখা হয়। এক লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয়মুখী যানবাহন চলাচলের ফলে দ্রুতই যানজট তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে যানজট নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর দীর্ঘছায়া রাতে ও আজ সকালের মধ্যে বড় অংশে বজায় ছিল।
মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
জটায় আটকা থাকার কারণে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে চলতি দিনগুলোতে বিশেষ করে প্রবল গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি তীব্র হয়েছে। খাদ্য ও পানি সংকটে পড়ে অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। একাধিক যাত্রী বলেছে, জরুরি ফ্লাইট ও ব্যক্তিগত সময়সূচিতে বাগড়া পড়ে গেছে; কেউ কেউ ফ্লাইট মিস করেছেন। বাসে থাকা একজন যাত্রী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বলেছিলেন যে ফেনী থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে তাঁর সময়ের হিসাব পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
জরুরি সেবায় ব্যাঘাত—অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যু
জট আরেকটি মানবিক ঐতিহ্য ভেঙে দিয়েছে—অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক হৃদরোগী রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় ও সংবাদ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় ও বাড়ির বিবরণ সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। দাউদকান্দিতে যানজটে আটকে প্রায় চার ঘণ্টা পর ভোরে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে তারা বলেন, দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছালে হয়তো রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব হত।
“সকালে ফেনী থেকে রওনা দিয়েছিলাম; তিন ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল, এখনও দাউদকান্দিতেই আটকা আছি,”
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, মেঘনা সেতু পার হওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জ অংশের সেতুতে সংস্কারকাজ শুরু হলে কিছু সময় ঢাকাগামী লেন বন্ধ ছিল। তিনি জানান, যানজট কুমিল্লার সেনানিবাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার রেশ আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত দেখা গেছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকও একই ঘটনার কারণ হিসেবে সংস্কারকাজকে নির্দেশ করেছেন।
চেকলিস্ট—যাত্রী ও পরিবহনচালকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
- সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্রমণ সময় আগেই জানানো।
- জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রার সময় রুট ও সম্ভাব্য তথ্যমাধ্যমে যোগাযোগ রাখা।
- দীর্ঘ সময় রোকে থাকার প্রস্তুতি—পানি, খাবার, ওষুধ ও ছায়ার বন্দোবস্ত।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জানজটের স্থায়িত্ব | প্রায় ৩০ ঘণ্টা (গণনা: শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত) |
| জট ছড়িয়ে পড়ার এলাকা | নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি (প্রায় ৪০ কিলোমিটার) |
| প্রভাবিত সেবা | বাস, ব্যক্তিগত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফ্লাইট সংযোগে বিলম্ব |
পাঠক—স্থানীয় ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ বলছে তারা যানজট নিরসনে কাজ করছে এবং কিছু অংশে পরিস্থিতি অল্প কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে এই ধরনের সড়ক সংস্কার ও তাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাব ভবিষ্যতে আরও বড় মাপের ভোগান্তি ডেকে আনতে পারে—বিশেষত জরুরি সেবার জন্য। তাই রাস্তায় কাজ করলে পূর্বসতর্কতা, সেতু-পারাপারের বিকল্প রুট প্রদর্শন এবং জরুরি যানবাহনের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ঘটনাস্থলের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।