নরসিংদীর বৌয়াকুড় গ্রামে অবস্থিত সার্বজনীন দুর্গাবাড়ী মন্দিরে সম্প্রতি পরিচালনা পরিষদের নতুন সদস্যগণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্থানীয় উপদেষ্টা পরিষদ ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী কার্যকালীন জন্য ৪১ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নেতৃত্বের বণ্টন ও দায়িত্ব
কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সেন্টু দাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সবুজ দাস। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নাম উঠেছে টুটুল দাসের। নতুন কমিটির সদস্যরা জানান, তারা মন্দিরের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়মমাফিক সম্পন্ন করা এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে কাজ করবে।
উপদেষ্টা পরিষদের অভিজ্ঞ সদস্যরা সভায় উপস্থিত থেকে কমিটি গঠনে সুপারিশ ও পরামর্শ প্রদান করেন। উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ ও উপদেষ্টা মাখন দাসসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি।
কী লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে
নবগঠিত কমিটির নেতা ও উপস্থিত গণ্যমান্যরা মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেবেন বলে জানান:
- ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষা—মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে অক্ষুন্ন রাখা।
- উৎসব-উপাসনা সুষ্ঠু আয়োজন—আসন্ন পূজা-পার্বণ ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুব্যবস্থায় সম্পন্ন করা।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন—মন্দির প্রাঙ্গণের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে উদ্যোগ নেওয়া।
কমিটির গঠন সংক্ষিপ্ত তালিকাভিত্তিক
নিচে মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রধান পদগুলোর শিরোনাম ও প্রাপ্ত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| পদ | নাম |
|---|---|
| সভাপতি | সেন্টু দাস |
| সাধারণ সম্পাদক | সবুজ দাস |
| সাংগঠনিক সম্পাদক | টুটুল দাস |
| সদস্যসংখ্যা | ৪১ জন (সম্পূর্ণ কমিটি) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
সভায় অংশ নেওয়া বহু গ্রামবাসী ও মন্দিরের নানা স্তরের নেতারা নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান এবং মন্দিরের গৌরব ফিরে আনার আহ্বান জানান। এলাকার প্রবীণ ও উপদেষ্টা সদস্যরা মনে করান যে, ঐতিহ্য রক্ষা এবং সম্প্রদায়ের জন্য মন্দিরের ভূমিকা প্রাণবন্ত রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।
স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মন্দির শুধুই ধর্মীয় অনুষঠানের স্থান নয়—এটি গ্রামের সামাজিক মিলনস্থলও। তাই পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সরাসরি গ্রামবাসীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করবে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশিত সময়সূচি
নবগঠিত কমিটি নিজের কার্যপরিধি চূড়ান্ত করে দ্রুতই প্রথম সাধারণ সভা ডাকবে বলে মন্দির সূত্রে জানা গেছে। সভায় আগামী পূজা-উৎসবের সূচি নির্ধারণ, দায়িত্ববন্টন এবং জরুরি সংস্কার কাজের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা আশা করেন, নতুন কমিটি মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং বিভিন্ন দাতাবৃন্দ ও সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শুরু করবে। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যারা উৎসব ও বাঁধভাঙ্গা সাংস্কৃতিক অনুষ্টান করে থাকেন তাদের জন্যও কার্যকর পরিকল্পনার ব্যবস্থা করা হবে—তাতে গ্রামের তরুণ সমাজকেও কাজে লাগানো যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
মোটকথা, বৌয়াকুড় দুর্গাবাড়ীর নবগঠিত পরিচালনা কমিটি এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে নতুন কার্যক্রমের সূত্রপাত ঘটাতে পারে—এই প্রত্যাশা নিয়ে জনমানুষ তাদের পদক্ষেপ দেখবে।