নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের চলতি বছরের শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। স্কুলটিতে পরীক্ষায় বসা ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন-ভিত্তিক ফল প্রকাশিত হওয়ায় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে শোকজ (কারণ দর্শানোর) নোটিশ জারি করেছে।
বোর্ডের অভিযোগ ও শোকজের উদ্দেশ্য
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ফল ও শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ফল ও অর্জনের সত্যতা যাচাই, ও প্রয়োজনে ঘটনার পক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা নেয়া হচ্ছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের যুক্তি
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন আহমেদ শোকজ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন যে তারা শোকজ সম্পর্কে অবগত আছেন এবং দ্রুত বোর্ডকে জবাব দেবেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষণ পদ্ধতি তুলে ধরে উল্লেখ করেছেন যে তাদের মোট তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থী ছিল ৪৮৫, যাদের মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং এ নিয়ে কিছু মহল অপপ্রচার করছে।
“শোকজের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের সব কাজের স্বচ্ছতা রয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোর্ডকে জবাব দেব।” — মো. ইমন আহমেদ, প্রধান শিক্ষক
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবোধক বিষয়াবলী
একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ সফলতা লক্ষ্যনীয় হলেও একই সঙ্গে তা শিক্ষা কার্যক্রম ও ফল নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও উত্থাপন করে। শিক্ষাবোর্ডের শোকজ মূলত ওই স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও নিয়মভঙ্গ আছে কি না তা পরিদর্শন করতে চায়। স্থানীয় অভিভাবকরা ও শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য অংশীদারদের জন্য এর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভবিষ্যৎ ভর্তি, সরকারি-অনুদান ও প্রতিষ্টানের সুনাম প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্যসারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া জবাব এবং বোর্ডের অনুসন্ধানের ফলাফল পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তের জন্য মাইলফলক হবে।
- রেকর্ড: মোট নামভুক্ত শিক্ষার্থী — ৪৮৫
- টেস্টে অনুত্তীর্ণ: ১০৩
- চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া: ৩৮২
| কথ্য | সংখ্যা |
|---|---|
| নামভুক্ত শিক্ষার্থী | ৪৮৫ |
| টেস্টে অনুত্তীর্ণ | ১০৩ |
| চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ | ৩৮২ |
পাঠক ও অভিভাবকের জন্য উপকারি তথ্য
যারা শিক্ষাব্যবস্থা ও ফলপ্রকাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের জন্য জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, শিক্ষা বোর্ডের শোকজ প্রক্রিয়া অনুসন্ধানী আকারের এবং এটি প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী, পরীক্ষার উপস্থিতি রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে। অভিভাবকরা চাইলে বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা ও ফল-নির্ধারণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী পর্যবেক্ষণ করে স্বচ্ছতায় অনুরোধ করতে পারেন।
এখনও বোর্ডের অনুসন্ধানী রিপোর্ট বা স্কুলের দেওয়া আনুষ্ঠানিক জবাব প্রকাশ হয়নি। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় জনগণের কাছে স্পষ্ট চিত্র আসবে যে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া সংক্রান্ত বিতর্কটাই অনভিপ্রেত প্রচারণা নাকি কোন নিয়মের ব্যত্যয় রয়েছে।
এই ঘটনায় নরসিংদীর শিক্ষাঙ্গন ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বোর্ডের অনুসন্ধান শেষ হলে সেই অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।