নরসিংদীতে জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এক দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত ১৮টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। অভিযানটি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শিবপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় মনোনিবেশ করে পরিচালিত হয়।
অভিযান ও ফলাফল
অভিযানে গ্যাস গ্রাহকদের বকেয়া বিল বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৮টি মামলা করা হয় এবং মামলাগুলোর দণ্ডবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের থেকে মোট ২ লাখ ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং গ্যাস সরবরাহের অনিয়মগুলি তদন্ত করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| বিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ | ১৮ |
| বকেয়া বিল আদায় | প্রায় ১৫ লাখ টাকা |
| দায়ের করা মামলা | ৮টি |
| অর্থদণ্ড আদায় | ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা |
কেন খতড়া জরুরি?
অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি করে না; এতে বৈধ গ্রাহকদের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পাইপলাইন বা মিটারবহির্ভূত সংযোগে গ্যাস লিকেজ, চুলায় বেনজাইনের মতো অনিরাপদ বস্তু ব্যবহার ইত্যাদি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়।
অভিযানের প্রশাসনিক অংশ
অভিযানটি জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নরসিংদী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেপাল কান্তি দেব। অভিযানে অংশ নেওয়া সূত্ররা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে যাতে গ্যাস ব্যবহারের অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগগুলোর উৎস নির্মূল করা যায়।
স্থানীয় প্রভাব ও জিজ্ঞাসা
শহরের কিছু এলাকায় গত কয়েক মাসে গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম এবং চাপ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল; সেই অভিযোগগুলো উত্থিত হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন মনিটরিং বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্বাভাবিক গ্রাহকরা পুনরায় ঠিকমতো গ্যাস পাবে কিন্তু বকেয়া ও অনিয়মের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারের দৈনন্দিন কার্যাবলীতেও অসুবিধা হতে পারে—তাই স্থানীয় প্রশাসনের ত্রস্ত নীতি ও ভোক্তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা দরকার।
- অভিযানকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিষ্ক্রিয় সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি পাইপলাইনে অননুমোদিত সংযোজনের মাধ্যমে গৃহে গ্যাস সরবরাহ করত।
- গ্যাস কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির অবসান ও সেবার মান বজায় রাখাই মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মোবাইল কোর্ট ও জরিমানার মাধ্যমে প্রশাসন দ্রুততার সাথে বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করছে।
পরবর্তী করণীয় ও সতর্কতা
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও গ্যাস অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। তিতাস কোম্পানি স্থানীয় গ্রাহকদের সতর্ক করেছে যে, অনুমোদনবহির্ভূত সংযোগে জড়িত হওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে সেবা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে গ্যাস সংযোগ ও মিটার ব্যবহারে কোনো সমস্যা থাকলে গ্রাহকরা সরাসরি তিতাসের অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন এবং সরকারি সেবায় সহযোগিতা করলে সেবা পুনরুদ্ধার আরও দ্রুত হতে পারে—এমনই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
অভিযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তীতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে আপডেট পাওয়া যাবে বলে অনুরোধ করা হয়েছে।