নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় মাটিয়ালপাড়া এলাকায় গত সোমবার রাতে মাদক সেবনের সময় একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাটিয়ালপাড়া এলাকার একটি বাগানবাড়িতে কয়েকজন মাদক কারবারি ও সেবনকারীর উপস্থিত থাকার খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে ওঠেপড়া করে। অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেলাব থানায় কর্মরত কনস্টেবল শামসুল ইসলাম। স্থানীয়রা কনস্টেবলসহ তিনজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেন।
বেলাব থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ স্থানীয় ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন যে মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
"আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না,"
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ব্যক্তিদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| নাম | সম্পর্ক/ঠিকানা | বয়স |
|---|---|---|
| শামসুল ইসলাম | বেলাব থানায় কনস্টেবল | উল্লেখ নেই |
| উজ্জ্বল মিয়া | মাটিয়ালপাড়া, মৃত আলী আকবরের ছেলে | ৩৭ |
| রকি | ইব্রাহিমপুর গ্রামের মো. আতস আলীর ছেলে | ২৮ |
| মো. বাদল | মৃত মজনু মিয়ার ছেলে | ৩৭ |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের মন্তব্য
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে মাদক সেবন ও কারবারীর সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীর সম্পর্ক গোপন রাখা হয়। এমন অভিযোগের পর স্থানীয়রা স্বপ্রণোদিতভাবে ব্যবস্থা নিলেও থানার উচ্চপদস্থরা দ্রুত দেনা নেয়ার আশা করছেন। ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্তের পর প্রকৃত দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রেক্ষাপট — আগের ঘটনায় কানাডা
এটি একক ঘটনা নয়; একই উপজেলার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের মধ্যেও মাদকের সম্পর্কিত দুটি ঘটনার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২৭ এপ্রিল বেলাব থানার অন্য এক কনস্টেবল মো. জীবন মিয়া (২৮) কে খামারের চর এলাকা থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগের তীব্রতা বেড়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
পুলিশ বাহিনীর কণ্ঠে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ না হলে জনদরবারে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে গ্রামের ছোট শহর ও উপজেলাগুলোর সমাজে মাদক প্রবাহ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং কমিউনিটি নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
- স্থানীয় প্রশাসন — ঘটনার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
- বহির্ভূত নজরদারি — জেলার অন্যান্য ঘটনা বিবেচনায় স্থানীয়দের দফায় দফায় তদারকির দাবি আছে।
- সমাজের প্রতিরোধ — এলাকার সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা মাদক বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই ঘটনার পর বেলাব থানার হেফাজতে রাখা ওই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তা অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে থানার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি জানানো হবে বলে ওসি জানিয়েছিলেন।
WE NEWS-এর নরসিংদী সার্ভিস এই ঘটনার প্রতি নজর রাখবে এবং তদন্ত-প্রক্রিয়া, অভিযোগপত্র দাখিল ও স্থানীয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আপডেট জানাবে।