নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জানগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচপাম্পের দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওই পাম্পের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০০ বিঘা ধানজমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ রয়েছে এবং কৃষকেরা উদ্বেগে রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও সময়রেখা
স্থানীয় সেচপাম্প পরিচালনাকারী মো. ফেরদৌস ভূঁইয়া জানান, ২০১৮ সালে ওই পাম্পে মোট তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি ২৫ জুলাই বিকেলে পাম্পে গিয়ে তিনটি ট্রান্সফরমারই যথাস্থানে দেখেন। কিন্তু পরদিন ২৬ জুলাই সকাল প্রায় ১০টায় পাম্পে গেলে দেখেন দুটি ট্রান্সফরমার নেই। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেগুলো পাওয়া যায়নি; তাঁর ধারণা রাতের কোনো এক সময় চোররা ট্রান্সফরমার দুটি নিয়ে গেছে।
"ট্রান্সফরমার দুটি না থাকায় কৃষকেরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে প্রায় ২০০ বিঘা জমির চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন,"
ফেরদৌস ভূঁইয়া ২৮ জুলাই রায়পুরা থানা-এ লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে চুরি যাওয়া প্রতিটি ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষকেরা ও সেচব্যবস্থার সংকট
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এলাকার বিপুলসংখ্যক চাষী সেচের জন্য ওই পাম্পের উপর নির্ভরশীল। ট্রান্সফরমার না থাকায় জল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ফলে চলতি আমন মৌসুমে ধানের সময়মতো পানি দিতে সমস্যা হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা দ্রুত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
- ঘটনাস্থল: আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন, দক্ষিণ মির্জানগর পশ্চিমপাড়া
- ঘটনার সময়: ২৫-২৬ জুলাই (চুরি নৈশকালে ধারণা)
- প্রভাবিত জমির পরিমাণ: প্রায় ২০০ বিঘা
- প্রতিবেদন ও অভিযোগ: ২৮ জুলাই রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ
প্রশাসন ও তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য
রায়পুরা থানার সূত্রের একটি অংশ সংবাদে ছিল; কিন্তু প্রতিবেদনে পুলিশের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের দাবি—চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার দ্রুত উদ্ধারে ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
| আইটেম | বিস্তারিত |
|---|---|
| প্রতিস্থাপনকৃত ট্রান্সফরমার সংখ্যা (প্রতিটি) | প্রায় ২ লক্ষ টাকা মূল্যমান |
| মোট প্রভাবিত জমি | প্রায় ২০০ বিঘা |
| অভিযোগ দাখিল | ২৮ জুলাই, রায়পুরা থানা |
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
কৃষক ও সেচপাম্প পরিচালনাকারীরা প্রত্যাশা করেন দ্রুত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাতে পরবর্তী মৌসুমে আবার একই ধরনের সমস্যা না সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, চুরি রোধে নিয়মিত রাউন্ড অব দিক—নিরীক্ষণ ও পাম্পগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা হোক।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিএডিসির প্রতিনিধি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেন, তার অগ্রগতি ও উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে স্থানীয়রা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই সেচ ব্যবস্থার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সান্ত্বনা পাবে।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার কাছে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে থানার তদন্ত প্রতিবেদন ও বিএডিসির অবস্থান জানালে আপডেট দেওয়া হবে।