নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক বিবাদের একপর্যায়ে স্ত্রীর হত্যা করে কবরস্থানে লাশ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও গ্রেপ্তার
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত হলেন হোসনে আরা বেগম, তিনি মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের মো. রহমান মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী শরীফ মিয়া ভগীরথপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র এবং মাধবদীর গরুর হাট এলাকার একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
পুলিশকে দেয়া জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ মিয়া বলেছেন যে, গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ হয়। তিনি জানান, বিরোধের সময় স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় করলে তিনি টিউবওয়েলের ওপর পড়ে অচেতন হন। পরে কিছুক্ষণ পর স্ত্রী জ্ঞান না ফেরায় তিনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে না নিয়ে পরিবারের লোকজনকে জানালে আইনি ঝামেলা এড়াতে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন এবং পরদিন গভীর রাতে কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে মাটিচাপা দেন।
পুলিশি অনুসন্ধান ও লাশ উত্তোলন
ঘটনার পরদিন সন্দেহজনক আচরণ ও কথাবার্তার কারণে মাধবদী থানা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে নজরদারিতে রাখে। থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ করতে এসে শরীফের কথাবার্তা ও আচরণ অসংলগ্ন মনে হওয়ায় পুলিশ আরও তদন্ত শুরু করে এবং নোয়াকান্দা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত একপর্যায়ে হত্যার ও কবরস্থানে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন।
“পরবর্তীতে নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, সন্দেহ তীব্র হওয়ার পর শরীফকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলে ও আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ/সময় | ঘটনাবলি |
|---|---|
| ১৭ আগস্ট | পারিবারিক বিবাদের সময় স্ত্রীর সঙ্গে মারামারি; অভিযুক্ত বলেছে স্ত্রী টিউবওয়েলের ওপর পড়ে অচেতন হন। |
| ১৮ আগস্ট | অভিযুক্ত দাবি করেছেন স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে; রাতে কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। |
| ১৯ আগস্ট | অভিযুক্ত থানায় এসে জিডি করার চেষ্টা করেন; সন্দেহজনক আচরণে পুলিশ তল্লাশি ও পরে গ্রেপ্তার। |
প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা ঘটনার কথা জানার পর পরিবেশে উদ্বেগ দেখা গেছে। পরিবারের দাবি ও স্থানীয়দের চাহিদা সম্পর্কে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় পুলিশ বলেছে যে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- অভিযুক্ত: শরীফ মিয়া — গ্রেফতার ও আদালত প্রক্রিয়াধীন।
- নিহত: হোসনে আরা বেগম — মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- প্রক্রিয়া: কবরস্থানে লাশ উত্তোলন ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিতিতে করা হয়েছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে; পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। নরসিংদী জেলা ও মাধবদী থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হত্যার কর্মকাণ্ড ও দফতরের প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সর্বোচ্চ সচেতনতা নিয়ে তদন্ত করছে; বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্তকারীরা সব প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবেন বলে জানান।