নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের নামের আশপাশে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সূত্র ও দলিলভিত্তিক অভিযোগ অনুযায়ী, বন্ধ থাকা মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল-এর পক্ষে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেখানো হয় এবং পরে তা পেষণ করে ফলিত আটা সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। অভিযোগে বর্তমান অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন-এর বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বিভ্রাটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কীভাবে বরাদ্দ মিলেছে — দলিলের বিবরণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর নিয়ম অনুযায়ী চারটি ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে গম পেষণ করে ফলিত আটা সরকারি গুদামে দেয়। তালিকাভুক্ত মিলগুলো হল —
- মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল, কারারচর, শিবপুর, নরসিংদী
- মেসার্স এস আফরিন ফ্লাওয়ার মিল, চৈতনা, শিবপুর, নরসিংদী
- মেসার্স রহিমা ফ্লাওয়ার মিল, নিতাইগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
- মেসার্স মীম শরৎ ফ্লাওয়ার মিল, নিতাইগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল বছরের মে মাস থেকেই বন্ধ ছিল। বিদ্যুতের বিপুল বকেয়ার কারণে গত জুনে মিলটির বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবুও ১৩/০৭/২০২৬ তারিখে ওই মিলের পক্ষে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেখানো হয়। বরাদ্দটিতে ব্যবহৃত সিডিভি/আইআর/এস.এ.ও নম্বর ছিল ২৬২৭-০০০৩২৮৫৬৮৪ (ও.এম.এস) এবং বিলি আদেশ (ডি ও) নম্বর ছিল ০১০৪৫৩, যেখানে মিল মালিক হিসেবে স্বাক্ষর করেন মো: মিরাজ আলম ভূঞা। বরাদ্দকৃত গমের মূল্য দলিল অনুযায়ী ছিল ১৯ লাখ টাকা।
দলিলভিত্তিক পরবর্তী অনুকূলবন্টন
ঘটনা প্রকাশ হবার পর জেলা খাদ্য অধিদপ্তর গত ২৬/০৭/২০২৬ তারিখে ওই মিলের পক্ষে থাকা অবশিষ্ট গম পুনরায় তিনটি আনুষঙ্গিক মিলে উপ-বরাদ্দ করে। স্বারক নম্বর হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ১৩.০১.৬৮০০.০০০.০০০.৫৭.০০০৯.২৫.৬২৮। দলিল অনুযায়ী মোট ১৭৬.৬০০ মেট্রিক টন গম উপ-বরাদ্দ প্রদানের কথা বলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই গুদাম থেকে ১০০ মেট্রিক টন সরবরাহ করা হয়েছে।
| তারিখ | কার্যক্রম | টোন |
|---|---|---|
| মে ২০২৬ | মেরাজ মিল বন্ধ (স্থানীয় অভিযোগ) | - |
| ০৭ জুন ২০২৬ | মিলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন | - |
| ১৩ জুলাই ২০২৬ | মেরাজ মিলের পক্ষে ১০০ মেট্রিক টন বরাদ্দ | ১০০ |
| ২৬ জুলাই ২০২৬ | অন্যান্য মিলগুলোতে উপ-বরাদ্দ করা হয় | ১৭৬.৬০০ (মোট উপ-বরাদ্দ) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা
ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে আসার পর জনমনে সন্দেহ এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যে মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল, সেটি কীভাবে বড় পরিমাণ গম পেষণের জন্য বরাদ্দযোগ্য হিসেবে ধরা হলো? পাশাপাশি কোন কর্মকর্তা বা কর্মকর্তারা এই বরাদ্দ প্রণয়নে জড়িত ছিলেন এবং কেন তা তড়গড়ি করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে—এসব প্রশ্ন এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এই অনিয়ম সম্ভব হয়েছে।
কোথায় যাচ্ছে শস্য ও সরকারি তদারকি?
দলিল ও সূত্রভিত্তিক তথ্য থেকে প্রমাণ উঠে আসে যে সরকারি বরাদ্দ ও গুদাম সরবরাহের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি বা ফাঁক ছিল। গম বরাদ্দ ও পেষণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় খাদ্য অধিদপ্তরের তদারকি জরুরি বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মনে করেন। বর্তমানে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া বাংলা সংবাদপ্রতিষ্ঠানকে দেয়া যায়নি।
পরবর্তী করণীয়
অভিযোগ ও দলিল পর্যালোচনা করে তদন্ত না করলে ভবিষ্যতে সরকারি শস্য অপব্যবহার বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। নীচে প্রস্তাবিত কিছু জরুরি পদক্ষেপ:
- কর্মকর্তাদের বরাদ্দ ও হস্তান্তরের দলিলপত্র যাচাই করে স্বতন্ত্র তদন্ত চালানো।
- ফ্লাওয়ার মিলগুলোর কারিগরি সক্ষমতা ও চলমান অবস্থা সার্বজনীনভাবে যাচাই করা।
- গম বরাদ্দ ও গুদামে সরবরাহ প্রক্রিয়া ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষণ ও প্রকাশ্য করা।
এদিকে তদন্ত শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা পরিবেশিত হবে। স্থানীয় মানুষের নিকটকালের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।