মাগুরায় সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ-এর মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বহাল রেখেছে। বেঞ্চটি হয়েছে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান-এর সমন্বয়ে।
হাইকোর্টের রায়ের সারমর্ম
আজ সোমবার উচ্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে করা ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে, আপিল খারিজ ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। রায়ের সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক এবং সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন হাফিজুর রহমান খান।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বিচারিক পথ
মামলাটির ঘটনা ঘটে গত বছরের মার্চে। ঘটনার দিন ওই শিশুটি বড় বোনের স্বশশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। ৬ মার্চ দুপুর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর মা ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি ১৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। আদালতে অভিযোগ গঠন ও বিচার কার্যক্রম শুরু হয় ২৩ এপ্রিল।
হাইকোর্টে আবেদন ও শুনানি
নির্দিষ্টভাবে শ্রুতিপরিচালনার মাধ্যমে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাইকোর্টে শুনানির জন্য গত ১০ জুন ওই বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। অগ্রাধিক্যের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট থেকে মামলাটির হাইকোর্ট শুনানি শুরু হয়। শুনানির প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক থেকে মামলার বিবরণ উপস্থাপন করেন। শুনানি ধারাবাহিকভাবে ২৩ ও ২৪ আগস্টও অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিন শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
মাগুরার সাধারণ মানুষ ও আইনি মহলে এই মামলার গুরুত্ব প্রকট। শিশুপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার যে উচ্চ আদালতের পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সমাজে বড় ধরনের সাড়া ঘটিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বিচার ব্যবস্থার দ্রুততা ও কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রসিকিউশনের পক্ষ ঘটনাটি শীঘ্রই বিচারের আওতায় আনার দাবি সমর্থন করেছে।
- আসামির পরিচয়: হিটু শেখ — নিহত শিশুটির বড় বোনের স্বশশুর।
- রায়: হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল।
- প্রক্রিয়া: ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ, আপিল খারিজ, জেল আপিল নিষ্পত্তি।
বিচারের সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৬ মার্চ | শিশুটি অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। |
| ১৩ মার্চ | ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু। |
| ৮ মার্চ | নিহত শিশুর মা মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। |
| ১৩ এপ্রিল | তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। |
| ১৭–২০ এপ্রিল | মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর ও অভিযোগপত্র গ্রহণ ও অভিযোগ গঠন। |
| ১১ আগস্ট | হাইকোর্টে শুনানি শুরু। |
| ২৫ আগস্ট | শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়; আজ রায় দিল হাইকোর্ট। |
আইনগত ও সামাজিক দিক
শিশু নির্যাতন শাস্তি সম্পর্কিত আইনের কার্যক্রম এবং দ্রুত ও ন্যায্য বিচারের দাবি সমাজে ব্যাপক। এই রায় থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রথম সারির প্রতিনিধিদের জন্য যে বার্তা যায় তা হলো—গুরুতর অপরাধে উচ্চ আদালতের পর্যায়ে কঠোর রায় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে এর উপরে সংবাদ মাধ্যমে ও নাগরিক পর্যায়ে সজাগতা বাড়িয়ে তুলতে হবে যাতে আশপাশের পরিবেশ শিশুর জন্য নিরাপদ থাকে।
মামলার পরবর্তী השלচনার বিষয়ে হাইকোর্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পৃথক নির্দেশনা দিলে সেগুলোকে অনুসরণ করে বিষয়টি সরাসরি জনগণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।