প্রাথমিক ঘটনা ও প্রতিক্রিয়া
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে পল্লীবিদ্যুতের লাইনে কাজের সময় এক দিনমজুর বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। নিহতের নাম মাহফুজুর রহমান (৩৫), তিনি শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামের আমজাদ আলির ছেলে। স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিক হিসেবে দৈনিক হাজিরাভিত্তিতে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময়কাঞ্জন ও উদ্ধারকাজ
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকাল ৯টা-র দিকে লাইনম্যান সুমন গাজী ও লাইন টেকনিশিয়ান হাসান আলি ঢোকা দিনমজুর মাহফুজুরকে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সংযোগ রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বের হন। দুপুর পৌনে একটার দিকে তারা কল্যাণপুরে পৌঁছান। সেখানে ১১ কেভি বৈদ্যুতিক পিলারে মাহফুজুর পোহানে অবস্থান করলে উপরে ওঠার সময় তিনি বিদ্যুতস্পৃষ্ট হন। পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য
ঘটনার সময় সুমন গাজী এবং শ্রীপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বরত লাইনম্যান ইয়াসিন আলি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে ওই কাজের জন্য আগত টেকনিশিয়ান হাসান আলি ঘটনার পরে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে খোঁজা হচ্ছে।
- সকাল ৯টা: কাজ শুরু করা ও অঞ্চল পরিদর্শন।
- দুপুর ১:৩০টা: কল্যাণপুরে পৌঁছানো ও পিলারে কাজ শুরু।
- প্রায় ১:৪৫–২টা: মাহফুজুর পিলারে উঠে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান; উদ্ধারকাজ পরিচালিত হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | মাহফুজুর রহমান, বয়স ৩৫, সারঙ্গদিয়া গ্রামের আমজাদ আলির ছেলে |
| অভিযুক্ত/নিখোঁজ | টেকনিশিয়ান হাসান আলি (নিখোঁজ) |
| আহত ও ভর্তি | লাইনম্যান সুমন গাজী ও ইয়াসিন আলি — শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি |
| প্রতিটি পদক্ষেপ | দুই কর্মী সাময়িক বরখাস্ত, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন |
পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
শ্রীপুর উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শামীম উদ্দিন বলেন, মাহফুজ একজন দিনমজুর ছিলেন এবং গাছের ডালপালা ছাঁটাছাঁটি এবং অন্যান্য কাজ করতেন। তিনি জানান, মাহফুজকে নিয়েই দু’জন স্টাফ ট্রান্সমিটার মেরামতের কাজে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার কথা ছিল।
“মাহফুজ একজন দিনমজুর। গাছের ডালপালা ছাঁটাছাঁটির কাজ করতেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুইজন স্টাফ ট্রান্সমিটার মেরামতের কাজে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ থাকার কথা। তারপরও কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামও বলেন, একজন দিনমজুরকে বৈদ্যুতিক পিলারে ওঠানো হয়নি বলে তাদের নীতি; তা সত্ত্বেও কেন ও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্তে দেখা হবে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর শ্রীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি দুইজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন করে প্রতিবেদন দেবে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা এবং নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা চেয়েছে। শ্রীপুর থানার পক্ষ থেকে বর্তমানে নিহতের সুরতহাল করা হয়েছে এবং পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে এলাকার বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা প্রটোকল পালন ও দৈনন্দিন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে প্রশ্ন উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।