উৎসবমুখর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজ অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মনে রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকালেই মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। কলেজ অডিটোরিয়ামে স্মৃতিচারণ ও শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসব, সাফল্য ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। আয়োজকদের জানানোর মতে, এদিন আনুমানিক সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকিরসহ অন্যান্য শিক্ষক ও বিভাগের প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কলেজটির অধ্যক্ষ ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা চাই, অবিলম্বে মাগুরা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ভবন হোক। যেখানে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতার সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবে।”
শিক্ষাব্যবস্থা ও সাফল্যের ছাপ
অধ্যক্ষের কথায়, বাগোকালীন শিক্ষকসংকট থাকলেও মাগুরা মেডিকেল কলেজ সাত বছর পেরিয়ে অষ্টম বছরে পদার্পণ করেছে এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলে পরপর চারবার প্রথম স্থান পেয়েছে। এছাড়া এক বছরের মধ্যে বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষার্থী সফলভাবে এফসিপিএস সম্পন্ন করেছেন; রিপোর্টে বলা হয়েছে এক বছরের মধ্যে ১১ শিক্ষার্থী এ সাফল্য অর্জন করেছে।
এই ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে মাগুরা অঞ্চলের মর্যাদা বাড়িয়েছে। কিন্তু স্থায়ী ভবন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে—যা শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকশক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদিভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় প্রভাব ও চাহিদা
একদিকে পরীক্ষার সফলতা মেগার প্রশংসনীয় হলেও অন্যদিকে নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা শিক্ষার মান, গবেষণা ও অনুশীলনগত প্রশিক্ষণে বাধা সৃষ্টি করে। স্থায়ী ভবন হলে:
- শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত হবে
- ক্লিনিক্যাল অনুশীলন ও রোগীর সেবায় সম্মিলিত উন্নয়ন ঘটবে
- দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং অতিরিক্ত কোর্স চালানো সম্ভব হবে
“আমরা চাই, অবিলম্বে মাগুরা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ভবন হোক। যেখানে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতার সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবে।” — ডা. মো. কামরুল হাসান, অধ্যক্ষ
উপস্থিতরা ও অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত হিসাব
অধ্যক্ষের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা ছাড়াও ওই দিন কলেজে স্মৃতিচারণ এবং অনুষ্ঠানের পর শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত আড্ডা আয়োজন করা হয়। উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তালিকা ও তাদের দায়িত্ব সংক্ষিপ্তভাবে নিচে টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | পদ |
|---|---|
| মনোয়ার হোসেন খান | সংসদ সদস্য (ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ) |
| ডা. মো. কামরুল হাসান | অধ্যক্ষ, মাগুরা মেডিকেল কলেজ |
| ডা. শামীম কবির | মাগুরা সিভিল সার্জন |
| মহসিন উদ্দিন ফকির | সদর হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক |
মেডিকেল কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও শিক্ষা বিভাগকে দ্রুত সমন্বয় করার আহ্বানও করা হয়েছে। তবে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ক্যাম্পাস স্থাপনের সময়সীমা বা কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
অবশ্যই, মাগুরা মেডিকেল কলেজের এই সাফল্য স্থানীয়দের জন্য উদাহরণস্বরূপ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ অপরিহার্য—এ বিষয়ে সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা স্পষ্ট।