শালিখা (মাগুরা): ফটকী নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতু বসে আছে—কারণ নেই সংযুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত পথ। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের আড়পাড়া বাজার সংলগ্ন এই সেতুতে সরকারি অনুমান অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটিরও বেশি টাকা, তবু দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে পাওয়া যাচ্ছে না।
কী অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুও মাগুরা পাড়ের সংযোগ পথে নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন আগে শেষ হলেও আড়পাড়া বাজারের পাশে ২৩৫ মিটার অংশের জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় দক্ষিণের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ থমকে আছে। ফলে নির্মিত নতুন সেতুটি মূলত যে কোনও কার্যকরী কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই সড়কটি হচ্ছে কড়া সংযোগ রুট—প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ও শত শত ভারি যানবাহন এই শিরায় চলাচল করে। তাদের নিরাপত্তা ও পথের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের সংশয় ও উদ্বেগ
সেতু দক্ষিণমুখে আড়পাড়া বাজারে মুদি দোকান চালানো অলোক রায় জানান, তার দোকানের সামনের জমি সেতুর প্রভাবিত অংশে পড়েছে। তিনি বলেন—
“আমার দুই শতাংস জমি সেতুর মুখে পড়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য যদি অধিগ্রহণ করে সরকার তাহলে ন্যায্যমূল্য পেলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।”
অন্য এক স্থানীয়, মো. মশিয়ার মোল্যা বলেন, “পুরোনো সেতুটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় নতুন সেতুটি দ্রুত চালু হওয়া দরকার। নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় এটি কারো কোনো উপকারেই আসছে না।”
কী বলছেন কর্তৃপক্ষ?
মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, সেতুর মূল অবকাঠামো ও মাগুরা অংশের সংযোগ সড়ক প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন—
“সেতুর মূল অবকাঠামো ও মাগুরা অংশের সংযোগ সড়ক ইতোমধ্যে প্রস্তুত। আড়পাড়া অংশের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।”
পরিস্থিতির ভৌত চিত্র
সংক্ষেপে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো:
| উপাদান | অবস্থা |
|---|---|
| সেতু মূল কাঠামো | সম্পন্ন |
| মাগুরা (উত্তর) সংযোগ সড়ক | সম্পন্ন |
| আড়পাড়া (দক্ষিণ) সংযোগ সড়ক | অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে (২৩৫ মিটার) |
| সময়সূচি | নির্দিষ্ট নয় |
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই সেতু এবং অ্যাপ্রোচ রোডটি চালু হলে যেসব সুবিধা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোকে দেখে নেওয়া যায়—অঞ্চলের বানিজ্যিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, দূরপাল্লার যানবাহনের নিরাপদ চলাচল, দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমে যাওয়া এবং স্থানীয় বাজারের দ্রুত ও সুবিধাজনক পণ্য পরিবহন। তবু সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা নীরব।
স্থানীয়রা প্রতিদিনই পুরনো, দুর্বল সেতু ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে বর্ষাকালে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ী ও যাত্রী উভয়েই দ্রুত সমাধান দাবি করছেন।
কী করা উচিত—অগ্রাধিকার ও দাবি
স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ পুলিশের মতো প্রশাসনিক স্তরগুলোকে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রয়োজন জায়গায় ক্ষতিপূরণ নির্দিষ্ট করে দ্রুত অধিগ্রহণ শেষ হলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করে সেতুর উদ্বোধন সম্ভব হবে।
- অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা—জমিদারদের সঙ্গে ন্যায্য সমন্বয় ও ত্বরান্বিত বাছাই
- নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপডেট—পুরনো সেতু ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণ
- স্থানীয় অংশগ্রহণ বাড়ানো—স্থানীয়দের মতামত ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
নির্বাচিত এলাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে—এটাই সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
রিপোর্ট শেষে স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যায়, কয়েক কোটি টাকার এই অবকাঠামো যদি কার্যকর করা যায় তাহলে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগে তা ব্যাপক সুবিধা আনবে; তা না হলে টাকাহীন বিলাসিতার মতো হয়ে থেকে যাবে।