কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজার সংলগ্ন রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অভিযানে অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ উৎপন্নকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী তিনটি যানবাহনের বিরুদ্ধে সম্পন্ন হওয়া তিনটি মামলায় মোট ২,৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
অভিযান ও আইনগত প্রক্রিয়া
মোবাইল কোর্টের বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তার। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অভিযানে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ এর ৬(২) ধারা লঙ্ঘন করে যানবাহনে অনুমোদিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করার অপরাধে তিনটি আলাদা মামলায় চলা দ্রুত প্রক্রিয়ায় মোট ২,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একই সময় মোট ৫টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও জনস্বাস্থ্য
শব্দদূষণ শুধু কষ্টদায়ক নয়, এটি স্থানীয়দের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘকাল উচ্চমাত্রার শব্দ শোনার ফলে শ্রবণ-ক্ষতি, ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। জেলার প্রধান মহাসড়ক হওয়ায় এই ধরণের অনানুমোদিত উচ্চ শব্দ দ্রুত সম্প্রসারণে সহায়ক, ফলে অভিযানের গুরুত্ব বাড়ে।
কীভাবে কাজ চলবে
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তার মোবাইল কোর্টের উদ্ধৃতিতে জানিয়েছেন—
“পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এই ঘোষণায় বোঝা যায় যে রাজস্ব জরিমানা আরোপের পাশাপাশি কুড়িগ্রামে নিয়মিত উর্ধ্বতন নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হতে পারে।
অভিযানের ফলাফল — সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| আইটেম | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| মামলা | ৩টি পৃথক মামলা |
| জরিমানা মোট | ২,৫০০ টাকা |
| জব্দকৃত হর্ন | ৫টি হাইড্রোলিক হর্ন |
| অভিযানের স্থান | ত্রিমোহনী বাজার সংলগ্ন রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক |
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
অভিযানকালে সরাসরি স্থানীয়দের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রশাসনের এই তৎপরতা অনেক পথচারী ও আশেপাশের ব্যবসায়ীর জন্য স্বস্তিকর। আদালত এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ মিলে এই ধরণের মোবাইল কোর্ট ফলপ্রসূ হলে মহাসড়কে চলাচলকারীদের মধ্যে আনুগত্য সৃষ্টি হতে পারে।
- অভিযান অব্যাহত রাখলে অনুমোদিত শব্দমাত্রা রক্ষা পাবে।
- জরিমানা ও জব্দের আশঙ্কায় অবৈধ হর্ন ব্যবহার কমতে পারে।
- স্থানীয়দের স্বাস্থ্য ও বাচ্চাদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হতে পারে।
তবে এতে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি, জনসচেতনতা বাড়ানো ও বিকল্প সতর্কতা সংকেত ব্যবহারের বিষয়ে রোড-নেটওয়ার্কে সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রতি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব প্রদর্শিত হলো।
কুড়িগ্রাম সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যারা যানবাহন চালান তাদেরকে বিধি-নিষেধ মেনে চলা, অনুমোদিত সিগন্যাল ডিভাইস ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় উচ্চ শব্দ এড়ানোর পরামর্শ রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।