কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শন এবং গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। গত ১৩ আগস্ট তিনি জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবা কেন্দ্র সরজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের ধরন ও লক্ষ্য
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মূলত দাপ্তরিক গতি, সেবা প্রদানের মান এবং সাধারণ জনগণ সঠিকভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন কি না—এ বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শিত স্থাপনার মধ্যে ছিল ভূরুঙ্গামারী থানা, তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়।
| পরিদর্শিত স্থান | উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য |
|---|---|
| ভুরুঙ্গামারী থানা | দক্ষতা ও সেবা প্রক্রিয়ার যাচাই |
| তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৈক্ষিক-বহুশৈক্ষিক কার্যক্রম |
| ইউনিয়ন পরিষদ ও ডিজিটাল সেন্টার | সার্ভিস ডেলিভারির মান ও নাগরিক সেবা |
শিক্ষা, অভিভাবক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক শিক্ষার বাইরে শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্ব বলেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের কেবলমাত্র পাঠ্যসূচির মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না; তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশৈক্ষিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
“শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া জরুরি; শুধু পরীক্ষার ধারাবাহিকতা যথেষ্ট নয়”
সভায় অভিভাবকদের কাছে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো এবং সন্তানদের বিকাশে বাড়ির পরিবেশে নজরদারির আহ্বান জানানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট বানাতে এবং বিদ্যালয়ের সাথে অভিভাবকদের নিয়মিত সমন্বয় বাড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ সচেতনতা
পরিদর্শনের একাংশে জেলা প্রশাসক ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তালগাছের চারা রোপণ করেন। এই উদ্যোগটিকে তিনি স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। চারা রোপণ কার্যক্রমে স্থানীয়রা অংশ নেয় এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা
দৈনন্দিন জীবনে মহামূল্যবান সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটি জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণ। জেলা প্রশাসক বলেন, এসব সামাজিক ব্যাধি সমাজকে ধ্বংস করছে এবং প্রশাসন এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। তবে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; গণমানুষের সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এসব দুর্নীতির উৎস ধ্বংস করা সম্ভব।
- বাল্যবিবাহ ও মাদককে সমাজের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- প্রতিটি পরিবারকে নারী-শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সজাগ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
- ঘটনা ঘটলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের নিকট জানাতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক স্থানীয় জনগণের কাছে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং প্রশাসন প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিদর্শনের তাৎপর্য
সরাসরি মাঠপর্যায়ে তদারকি করা প্রশাসনিক কার্যক্রমের ত্বরান্বিতকরণ ও জনসেবা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখা হয়। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জেলা প্রশাসকের এ ধরনের অভিযান স্থানীয় দপ্তরগুলোর কার্যক্ষেত্র ও জনসেবার মান বিচার করে সরাসরি উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে সক্ষম।
পরিদর্শন থেকে যে বার্তাটি উঠে আসে সেটি হলো—শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজকে সচেতন করে সামাজিক অসুর বন্ধ করা গেলে স্থানীয় উন্নয়ন বেশি টেকসই হবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ও স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয়ে এমন চেষ্টা কার্যকরভাবে সফলতা পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।