কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সাঁড়াশি অভিযানে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ মো. শহিদুল ইসলাম (৪০), পরিচিতি ‘ট্যাবলেট শহিদুল’,কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ ১০,০০০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল উপজেলার বাগভান্ডার এলাকার সোনাতলীর মফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযান ও দলগত রূপরেখা
পুলিশ জানায়, অভিযানটি পরিচালনা করা হয় বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১টার মধ্যে। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন অভিযানটির নেতৃত্ব দেন। অভিযানদলে ছিলেন ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে এসআই মো. আল-আমিন ও এএসআই আবু সাইদ। দলটি ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযানে নামে এবং অভিযানের সময় শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশি এজাহারভিত্তিক অভিযোগ
পুলিশের আভাস অনুযায়ী শহিদুল দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ আছে, তিনি স্থানীয় সম্ভাবনাময় কিশোরদের মাদকাসক্ত করে তুলছিলেন এবং রংপুর ও দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় মাদক সরবরাহ করতেন। এছাড়া পুলিশের কাছে তথ্য পৌঁছেছে যে তার যোগাযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের সঙ্গে, বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা মাদককারবারিদের সঙ্গে।
“চতুর্থবারের চেষ্টায় মাদকসহ শহিদুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি,”
— সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন অভিযানের পরে একথা জানান। পুলিশ জানায়, এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শহিদুলকে ধরতে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল, তবে তিনি বিভিন্ন কৌশলে গ্রেপ্তার এড়িয়ে গেছেন।
উদ্ধারকৃত সামগ্রী ও প্রক্রিয়া
পুলিশ প্রাথমিকভাবে যেসব বিষয় উদ্ধার ও নথিভুক্ত করেছে তা নিচে সংক্ষেপ করা হলো:
- ইয়াবা: ১০৫ পিস
- নগদ অর্থ: মাদক বিক্রির আগমনী টাকা হিসেবে ১০,০০০ টাকা
- গ্রেপ্তার স্থান: বাগভান্ডার, সোনাতলী এলাকা
| আইটেম | পরিমাণ |
|---|---|
| ইয়াবা | ১০৫ পিস |
| নগদ (মাদক বিক্রির) | ১০,০০০ টাকা |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শহিদুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে—তার কর্মকাণ্ডে এলাকার তরুণেরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাদক বিক্রির আওতায় নেশাগ্রস্ত হওয়া কিশোর-তরুণদের সংখ্যা বাড়লে পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, বিবেচ্য অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া
পুলিশ গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে বা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে আরও তথ্য উঠে এলে অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ হতে পারে—বিশেষত ভারতীয় মাদকচক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটি যাচাই-বাছাই করা হবে।
পদক্ষেপ ও সতর্কবার্তা
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পুনরায় জনগণের কাছে সতর্কতা জারি করেছে—মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় স্তরে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্টরা সম্মত।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের প্রভাব বিবেচনা করে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে বলে ভূরুঙ্গামারী সার্কেল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।