কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের একটি ডিলার পয়েন্ট থেকে সার লুটের ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শুরু হওয়া ঘটনাটিতে রাতে প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় মোট ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও কৃষকের সংগ্রহ
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে সার না পাওয়া ও সরবরাহ না হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকরা শনিবার থেকে ডিলার পয়েন্টে সার দাবি করে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় রবিবার সকালেই কয়েকশ’ কৃষক জড়ো হয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে গুদাম থেকে সার নিয়ে যায়। কৃষকদের দাবি ছিল, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ডিলার সময়মতো সার না দিবে।প্রশাসনের পরিদর্শন ও উদ্ধার অভিযান
অপরাহ্ণে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ওই গুদামে মোট ছিল ৩৪২ বস্তা সার; এর মধ্যে ২০২ বস্তা ইউরিয়া এবং ২৩ বস্তা পটাশ সরাসরি লুটে নেওয়া হয়েছিল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ১০০ বস্তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কমিটি গঠন
ঘটনার তদন্ত ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এবং সদস্যসচিব হিসেবে জেলা কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা র়াজীেছেন।
প্রশাসনিক বক্তব্য
“লুট হওয়া ১০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সার ডিলারকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
এমনটাই জানিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ।
কৃষি বিভাগের প্রতিক্রিয়া
“কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন হলে পাশের ইউনিয়ন থেকেও সার এনে দেওয়া হবে। তবে এভাবে গুদাম থেকে সরাসরি সার নিয়ে যাওয়া কাম্য নয়।”
এভাবে মন্তব্য করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রশাসন জানিয়েছে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে সমন্বয় করা হবে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি বলেন:
“কৃষকরা সার নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সার উদ্ধারের অভিযান চলছে।”
প্রভাব ও স্থানীয় চাহিদা
স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার চাহিদা আশপাশে ছিল প্রায় চার হাজার বস্তা, কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল সীমিত। কৃষকরা বলছেন, বপনের সময় নিকটবর্তী পর্যায়ে সার না পেলে ফসল কার্যত বিপন্ন হবে—এ কারণেই চাপ বাড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের কৌশল নেওয়া হবে।
উপযোগী তথ্য ও ভবিষ্যৎ পথ
- গুদামে মোট ছিল: ৩৪২ বস্তা সার
- লুট করা হয়েছে: ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ (প্রাথমিক রিপোর্ট)
- রাত পর্যন্ত উদ্ধার: ১০০ বস্তা
| বিষয় | সংখ্যা (বস্তা) |
|---|---|
| গুদামের মোট সার | ৩৪২ |
| উর্বরক: ইউরিয়া | ২০২ |
| উর্বরক: পটাশ | ২৩ |
| রাত পর্যন্ত উদ্ধারকৃত | ১০০ |
পাঠক ও কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে—সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলে নিকটস্থ ইউনিয়ন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে রেশন ও বরাদ্দ কেমন রয়েছে তা জানিয়ে নেওয়া। প্রশাসন বলেছে, ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কৃষকদের চাহিদা মেটাতে দ্রæত সরবরাহ ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ও উদ্ধার অভিযান কিভাবে এগোচ্ছে—সেটি জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আনুষ্ঠানিক জানাতে থাকলে আমরা পাঠকদের তা প্রণয়ের মাধ্যমে জানিয়ে রাখব।