হালনাগাদ: রাস্তাঘাট ও জনজীবন
বান্দরবান শহরের প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা নিষ্পত্তিসীমার অনেক নিচে নেমে এসেছে। খানাখন্দ এবং ছোট-বড় গর্তে পরিণত হওয়া এসব সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা প্রতিদিনই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিশেষত শহরের একমাত্র সরকারী হাসপাতাল—বান্দরবান সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন থাকায় সেখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কীভাবে এমন পরিস্থিতি?
স্থানীয়রা জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর নামে রাস্তাগুলো ব্যাপকভাবে খোঁড়া হয়। কিন্তু কাজ শেষে সেগুলো যথাযথভাবে মেরামত বা সমতল করা হয়নি। উপরন্তু সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি এসব ক্ষত আরও বৃদ্ধি করেছে।
- অবশ্যিকভাবে পাথর ও ঢালাই না থাকায় গর্তগুলোতে বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়।
- হাসপাতাল, কলেজ ও ফায়ার সার্ভিস এলাকার সামনে পথগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
- টমটম ও মোটরযান চালকরা বলছেন, গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টো হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং বারবার মেরামতের খরচ বেড়ে যায়।
কোথায় কোথায় সমস্যা বেশি?
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায় সড়কের তীব্র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সমূহের মধ্যে রয়েছে—সদর হাসপাতাল সামনের রাস্তাটি, ফায়ার সার্ভিস এলাকা, কলেজ রোড, নিউগুলশান, ক্যাচিংঘাটা, নতুন পাড়া ও বনরূপা পাড়া। পৌরসভার তথ্যমতে পৌরসভার প্রায় পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে।
| এলাকা | স্থিতি |
|---|---|
| বান্দরবান সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তাগুলো | দীর্ঘদিন সংস্কারহীন, বড় গর্ত |
| ফায়ার সার্ভিস এলাকা, কলেজ রোড | চলাচলের অনুপযোগী, বৃষ্টি হলে বড় ঝুঁকি |
| নিউগুলশান, ক্যাচিংঘাটা, নতুন পাড়া, বনরূপা পাড়া | অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত |
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
শহরের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, উন্নয়ন নামে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করা হলেও তা যথাযথভাবে পুরণ করা হয়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একটি পর্যটন শহরের রাস্তা এত নাজুক হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।” ক্যাচিংঘাটা এলাকার টমটম চালক করিম জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং কয়েক দিনের ব্যবধানে বারবার মেরামতের খরচ দিয়ে হিমশিম খেতে হয়।
“জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য রাস্তাগুলো খোঁড়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ক্ষতিপূরণের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
উপরোক্ত বক্তব্যটি বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়ার। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদিত অর্থ বরাদ্দ পেলেই মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
প্রভাব ও প্রত্যাশা
বান্দরবান একটি পর্যটনকেন্দ্র—শহরের সড়কের এমন অবস্থা পর্যটন ইমেজ ও স্থানীয় ব্যবসায়ক-পর্যটনখাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করেন। বিশেষত জরুরি সেবাগ্রহী ব্যক্তি হাসপাতালে এসে সঠিকভাবে পৌঁছাতে না পারলে সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য খুঁত তৈরি করবে।
নাগরিকরা দ্রুত নির্দিষ্ট সময়সীমায় সড়ক সংস্কারের দাবি করে বলেছেন, যাতে শহরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা ফেরত আসে। প্রশাসনের কথায় অপেক্ষা করে শহরবাসী—অর্থ বরাদ্দ মিললেই কাজ শুরু হওয়ার আশ্বাস থাকলেও আগামী সপ্তাহগুলোতে সরেজমিন নজরদারি ও সাময়িক সংস্কার না হলে আস্থাহীনতা বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
উপসংহার: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খোঁড়াখুঁড়ি অনিবার্য হলেও কাজ শেষে রাস্তাঘাট যথাযথভাবে পুনরুদ্ধার করা হলে শহরের জীবনচক্র ও পর্যটন-অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে। বান্দরবানবাসী এখন দ্রুত ও টেকসই মেরামতের প্রত্যাশায় আছে।