বান্দরবান জেলা প্রশাসন দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা কয়েকটি দুর্গম পর্যটন সড়ক ও এলাকা জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করেছে। জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিন্দু-নাফাখুমসহ মোট চারটি স্পট এই সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে।
কোন কোন এলাকা উন্মুক্ত হলো
জানা যায়, গত ১১ আগস্ট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে পর্যটনকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উন্মুক্ত হওয়া সড়ক ও পর্যটনস্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত তিন্দু পর্যন্ত সড়ক;
- তিন্দুমুখ থেকে নাফাখুম পর্যটন এলাকা;
- রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত পথ;
- রিজুক ঝরনা এলাকা।
নিরাপত্তা—প্রধান শর্ত
জেলা প্রশাসন বিশেষভাবে জোর দিয়েছে যে উন্মুক্ত করা এলাকাগুলোতে ভ্রমণের সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি ও নির্দেশনা কড়াভাবে মেনে চলা আবশ্যক। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া সকল বিধি-ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রত্যেক পর্যটকের জন্য বাধ্যতামূলক।
“জনস্বার্থে থানচি উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় রেখে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে।”
এ মন্তব্যটি থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে গণবিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, গাইড, নৌকার মাঝি ও সেবা-সংক্রান্তদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন যে পর্যটক আগমন শুরু হলে স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি ধীরে ধীরে চাঙ্গা হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসনও উল্লেখ করেছে যে পর্যটকদের সুরক্ষা এবং সাধারণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা
- ভ্রমণে গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও গাইডের নির্দেশ মেনে চলবেন।
- দুর্গম এলাকার রাস্তা ও আবহাওয়া বিবেচনায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেবেন—যেমন উপযুক্ত জুতো, পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্য, এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যাবস্থা।
- প্রদত্ত নিরাপত্তা নির্দেশ ও বিজ্ঞপ্তি লঙ্ঘন করবেন না—এতে নিজে ও অন্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষণা ও স্থানীয়দের আশা মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পর্যটন খাত আবারো সচল হলে এলাকায় গৃহীত পরিষেবা ও বহুমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে আয় পুনরায় অর্জিত হতে পারে। তবে প্রশাসন পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও নির্দেশনা মেনে চলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
| উন্মুক্ত স্পট | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| তিন্দু (তমাতুঙ্গী- ত্রিশ কিমি অংশ) | থমাতুঙ্গী থেকে তিন্দু পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিমি সড়ক উন্মুক্ত |
| নাফাখুম | তিন্দুমুখ থেকে নাফাখুম পর্যটন এলাকা উন্মুক্ত |
| কেওক্রাডং-সুংসুংপাড়া | রুমা উপজেলার কেওক্রাডং থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত পথ খোলা |
| রিজুক ঝরনা | রিজুক ঝরনা এলাকাও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত |
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তােরা পর্যটকদের কাছে অনুরোধ করেছেন যে ভ্রমণের পূর্বে সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি খুঁজে দেখবেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভ্রমণ করবেন।
স্থানীয় পর্যটনচক্র ও প্রশাসন যখনই পর্যটন স্পট খোলা বা বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, তা জানানো হবে। পর্যটকদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য: উক্ত তথ্য জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের সাম্প্রতিক ঘোষণার ভিত্তিতে সংগৃহীত।