বান্দরবান সদর: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ
বান্দরবান সদর উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে বিনামূল্যে আমন ধানের চারা বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্টিত এই কর্মসূচি আয়োজন করে উপজেলা কৃষি অফিস; এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন।
কারা পাচ্ছেন এবং কতটুকু চারা
উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা বন্যায় বীজতলা হারিয়েছেন তাদের দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রমে বান্দরবানের ১,৮৩৭ জন চাষীকে আমন বীজ ও চারা প্রদানের জন্য তালিকা করে চারা হস্তান্তর করা হচ্ছে।
- বীজতলা তৈরি করতে অক্ষমদের জন্য চারা প্রস্তুত করা হয়েছে বিএডিসি এবং হটিকালচার সেন্টারে।
- চারা তৈরির মোট এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ শতাংশক (শতক)।
- বিতরণ কার্যক্রম আগামী এক সপ্তাহে সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
“যারা বন্যায় বীজতলা হারিয়েছেন, তাদের পুনরায় আমন ধান আবাদে সহায়তা করার লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রণোদনা গ্রহণ করা হয়েছে,”
এ সংবাদ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলমান সময়ে উপস্থিত কৃষকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতিবার প্রবল বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে তাদের বীজতলা নষ্ট হয়, ফলে মৌসুমভিত্তিক আবাদ ব্যাহত হয়। বিনামূল্যে চারা পেয়ে তারা পুনরায় ক্ষেতে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনিক উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের ভূমিকা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন জানিয়েছেন যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাদের হাতে বিনামূল্যে চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, জেলা কৃষি বিভাগ পাহাড়ি অঞ্চলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উপকারভোগী কৃষক | ১,৮৩৭ জন |
| চারা তৈরির জমির পরিমাণ | ৭০ শতক (চারা কেন্দ্র) |
| বিতরণ সমাপ্তির লক্ষ্য | এক সপ্তাহের মধ্যে |
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও উপকারভোগী কৃষক উপস্থিত ছিলেন। বান্দরবান অঞ্চলের কৃষি কার্যক্রমে বন্যার প্রভাব প্রতি বছর কয়েক দফায় প্রতীয়মান হওয়ায়, জেলা ও উপজেলার এ ধরনের প্রণোদনা ক্ষুদ্র ও হতদরিদ্র কৃষকদের তৎকালীন সহায়তা হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।
স্থানীয় কৃষক নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চারা সরবরাহ দ্রুত মাঠে রোপণ করা হলে ক্ষতিপূরণে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং মৌসুমের আবাদ কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে আয়ের পথ পুনরায় খুলে যাবে। কেন্দ্রীয় ও জেলা স্তরের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বান্দরবানের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব চাষী নিজে বীজতলা করতে পারেননি তাদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে প্রযোজ্য পরিমাণ চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং কাগজপত্র যাচাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ভিদ হস্তান্তর করা হবে।
অনুষ্ঠান সংক্রান্ত এবং বিতরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জেলা কৃষি বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় যোগাযোগ মাধ্যমে আর তাৎক্ষণিক ঘোষণা করা হবে।
রিপোর্ট: বান্দরবান প্রতিনিধি, WE NEWS